Sunday, March 15, 2026

শর্টকাট, ভাইপার, ধর্ম ইত্যাদি

 

১।।

 

পথ প্রত্যেকেরই একটা নয়, হরেক। এবং কোনও পথ একে অন্যের সঙ্গে মেলে যেমন না, তেমনই, সমান্তরাল তারা, এমন ভাবনার মধ্যে কোনও পুরষ্কারই রাখা নেই। ভুল বলছে অথচ পুরষ্কার পাচ্ছে, এ আমি রাজনীতির মঞ্চ ছাড়াআর কোথাও দেখি নি। বেঁচে থাকাতে তো নয়ই। আমি আয়নাকে বারবার শুধিয়েছি, তাগড়া পেশীর হোক, বা পিংখাড়ু-দুবলা, পথকে ছোট করে তাগিদ সবারই ভিতর এত আকূল কেন? দূরত্বকে সয়ে যাবার অস্থিরতা, নাকি, গন্তব্যে পৌঁছোনোর আরাম, যেমনটা প্রত্যেকে ভেবে রাখে, সেই তার অন্তরঙ্গ হওয়ার তাড়না? আয়না নিরুত্তর থেকেছে, আর আমি ভেবেছিলাম, একটা সমীক্ষা নামাব।

 

সমীক্ষার আগে সবকিছুকেই একটু এমপ্যাথিটিক্যালি ভাবা উচিত; তা আমায় বেশী গচ্চা পোহাতে হয় নি। কারণ আমার সামনে যে পথ, সেখানে মৃদুমন্দ বাতাস, কিছু গাছ-গাছালি, পাখির কলতান, মরশুমী ফুলের গন্ধ। বোঝা কঠিন কিছু তেমন নয় যে, এই পথ নিয়ে যদি আমি কথাও জাঁক করে থাকি, তাহলে এটা সাফ সাফ এইবেলা বলে নিতে হয় যে, এটা কানাগলি। আমার যতগুলো পথ ছিল, ঠিক ততগুলোই মত ছিল কিনা, সে ব্যাপারে আমার অল্প-বিস্তর শক থাকলেও, এটা সন্দেহের বাইরে উঠে গেছে যে, পথে নেমে পথ চিনতে গিয়ে, আমি সুবিধেজনকভাবে যে রাস্তা আঁকড়ে আছি, সেটাকে প্রথমে শর্টকাট ভেবে নিয়ে হেসে উঠেছিলাম, যেন হাতের মুঠো খুললে লোকে সাজানো গোছানো গন্তব্য দেখতে পাবে। পাপ যা কিছু, এক জীবনের, সেটা আমার ওইখানে; পদস্খলন সুতরাং, আশ্চর্যের কিছু না। আমার আগে-পিছে যারা চোখের সামনে ছিল, তারা প্রত্যেকেই যে গন্তব্যে যেতে পেরেছে এমন নয়, কিন্তু ঠাঁই হয়েছে তাদের একটা — রোদ, ঝড়, জল থেকে তারা বেঁচে-বর্তে আছে।

 

আমার গায়ে কোনও তাপ কিংবা শীতের ত্বক চিরে বাতাস এখনও যে আসে নি, এটাই বরং আশ্চর্যের। আমার গায়ে বর্ষার জলের ছিটে পড়েছে এলোমেলো, কিন্তু ফাংগাল ইনফেকশন যে কিছু নেই, এটাই অবাকের। যে পথগুলো আমার জন্য ধার্য ছিল, তারা কুন্ডুলী পাকিয়ে অকাল ঘুমে। তারা জেনে গেছে আর কোনও ধাবমানতার সম্ভাবনা — তাদের জন্য বরাদ্দ নেই আর। এবার তাদের নিশ্চিন্তির শয়ান। আর আমার এই পেলব ব্যক্তিগত পথে?

 

এখানে আমি দড়ি, ব্লেড, সিডেটিভের স্ট্রিপ, আগাছার মারা বিষের নানান ছাঁদের শিশি-বোতল দেখি। আমি ভুলে যাই, গ্রীষ্মে এখানে রোদ কড়া হতে পারে না, শরতে কাশফুল আমি ফি-বছর দেখি, শীতের দুপুরে আমেজ করে শোওয়ার মতো কত মাঠ এখানে পড়ে আছে ভাবলেশহীন। এই ব্যক্তিগত পথ, ছবিতে বেশ, কবিতায় বীথি, গানে এখানেই আলতা পায়ের আলতো ছোঁয়া পড়ে। এত কিছু পাওয়াটাই যে অভাববোধের অভাব, সেইটুকু বুঝে উঠতে গিয়েই আমি প্রায়, কর্তব্যের গন্তব্য বুজিয়ে আয়ু পার হয়ে এলাম!

 

প্রশ্ন একটা সর্বজনীন অতএব উঠে যায়ই — পথে না নামো তুমি, সেঠিক আছে, কিন্তু একবার নামলে ‘পর শর্টকাট তো দূর, শর্টকাটের ভাবনাটাই একটা যাবজ্জীবন মেয়াদের অপরাধ কিনা?

 

অনিন্দ্য ঘোষ   ©

 

আজ — ৩০।১১।২০২৫, রাত

 

 

২।।

 

 

মানুষের মৃত্যু হ’লে তবুও মানব

থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে

প্রথমত চেতনার পরিমাপ নিতে আসে।…

 

যত দিন যাচ্ছে, চন্দ্রবোড়া সাপ মানুষের প্রক্সিমিটিতে থাকতে থাকতে পুরোদস্তুর মানুষ হয়ে উঠছে — বছরভর লাগাচ্ছে, আর প্রত্যেক খেপে, অন্‌ অ্যান্‌ অ্যাভারেজ, পঞ্চাশটা করে বাচ্চা পাড়ছে। গোটা ব্যাপারটা যে পাইকারী জি পি সিরিজে বাড়ছে, তাতে করে মিশনঃ ২০৩০ — ক্যানসারের পাশাপাশি, রাসেল’স ভাইপারস’ বাইটস্‌ — আর একটা মহামারী আসতে চলেছে। আমরা এখন তার কার্ট্যন রেইজ্যর দেখছি।

 

কথায় আছে, বন্যেরা বনে সুন্দর... কথায় এ-ও আছে, মানুষের বন কেটে বসত — কথায় যাই থাকুক, হিউম্যান রেস তার নিজের পাপ ভুলে খড়কুটো পেলেও সেটা আঁকড়ে ধরে বাঁচতে যে চাইবে, সেটাই আদতকথা।

 

ডাঃ দয়ালহরি মজুমদার — মহাবলীপুরম — রাসেল’স ভাইপার — পশ্চিমবঙ্গ — প্রোটিন-ম্যিউটেশন অফ ভেনম — প্রশাসন — শাসক-বিরোধী — প্রোজেক্ট মা মনসা এন্টারপ্রাইজ (এন্টারপ্রাইজের জায়গায় অন্য কিছুও হতে পারে; - স্মৃতি যদি রান্ড হয়, তাহলে ধর্ম মালটি ধর্মতলার সঙ্গেও আইডেনটিক্যাল হয়; ৬-ই ডিসেম্বর, ১৯৯২ আর ৬-ই ডিসেম্বর, ২০২৫ — উভয়ই, দৃশ্যতঃ, আষাঢ়ে হতে হতে চাষাঢ়ে হয়; রাম মাইরি টিপ করে করে জন্মেছিল আর করসেবকেরা সেটা, ক্লোজ ডিস্ট্যান্স থেকে দেখেছিল, পরে, জি পি এস মেরে মেপেছিল; আজান বেসুরো হোক ক্ষতি নেই, যে দেবে তার গোঁফ কিছুতেই থাকবে না, কিন্তু দাড়িটা তার তামাকখেকো মউভ হতেই হবে, আর আজানকে প্রথম বাজতেই হবে ৬-ই ডিসেম্বর — অ্যাজ ইফ, একটা গোটা ইয়ার ক্যালেন্ডার জুড়ে একটাই তারিখ আছে। বালের ভোলতেয়ার, বালের কার্ল মার্ক্স, বালের ভগৎ সিং, বালের প্যেইন, বালের হিচেনস, বালের উইনবার্গ, বালের ডকিন্স, আর, আর বালের টলস্টয়... কোনও দিন শালার কোনও লেখাই পড়লামই না জ্ঞান মারিয়েছে, বাণী যৌনেছে বলে... যদিও সাপের রোজা আমি হিন্দুও দেখেছি, মুসলমানও দেখেছি — অন্ধকার নেমে এলে ‘পরে, যে যেখানে যে-যে ভাবে পারে, সে সেখানে অন্যের হোগা-ই ভরে), ২০২৬ — ইন্ডিজেনাস অ্যান্টিভেনম...

 

রুব্রিকসের রুবিক’স ক্যিউব ঘুরতে থাকবে। ঘুরতে থাকবে আর মরতে থাকবে। মানুষ। যারা বাঁচবে, তারা মুদীর খাতা খুলবে প্রথমে হেমাটোলজিস্টদের কাছে, পরে নেফ্রোলজিস্টদের কাছে।

 

সর্বনাশে কারো পেট শুকিয়ে আমসি হয়, আর পৌষমাসে কারোর, জাষ্ট, পেট হয়। এই যেমন, ওয়াইল্ড লাইফকে বাঁচিয়ে রাখো। পৃথিবীটা কি শুধু মানুষের! বন-ই নেই তো কী হয়েছে, ফ্যামিলি পিপল যদি সোসাইটিতে ইনক্লুডেড থেকেও বিছানায় বুনো, ফেবারিট স্পোর্টটা পেয়ে গেলে, সেই, যাকে বলে, ওয়াইল্ড হয়ে যেতে পারে; তাহলে, সিঁড়ির নীচে, একা কি জোড়া চন্দ্রবোড়া সিটি মারলে দোষ!

 

অনিন্দ্য ঘোষ     ©

আজ — ০৩।১২।২০২৫, রাত

 

 

৩।।

 

আফ্রিকায় নেকড়ের চাষ হয় কি না, জানি না আমি, আফ্রিকা — সে এক রবীন্দ্রনাথের কবিতা ছাড়া আমার কাছে দূরত্বেই রয়ে গেছে। সে থাক, চাষ তো চন্দ্রবোড়ারও হচ্ছে, সেদিনই একটা রীলস দেখলাম, ষ্টেশনের নামটা মনে পড়ছে না, হাওড়া লাইনের সেই ষ্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের লাগোয়া জলা জায়গার এপার থেকে ফ্যাঁৎ ফ্যাঁৎ, তো অন্য দিক থেকে — অপরিত্যাজ্য সাঁই সাঁই।

 

আচ্ছা, সাপ প্রসঙ্গ থাক, এ বিষয়টা এনাফ চটকানো হয়েছে, বিশেষ করে চন্দ্রবোড়াগুলো রগড়ানির চোটে এতদিনে নির্ঘাত দুধ-কলা খাচ্ছে আর অবরে সবরে হরিনাম করছে; অন্য প্রসঙ্গে আসি — ডি কক আজ ঠিক করেই নিয়েছে, শুধু ছয় মেরে মেরে ভারতীয়দের নরমতম জায়গার ছাল-বাকল খুলে নেবে; এই তো, অর্শদীপ সিং-কেই ধরুন না, বেচারা বল কাঁহা ডালে, অফ সাইড জ্বলে, লেগ সাইড ভী জ্বলে; আজ সারারাত সে দুঃস্বপ্ন দেখবে, ধোনটির, আহ, সরি, দ্য ককের — জিধার দেখুঁ-উ-উ  — তেরি তসবীর হ্যায়। এটা কিন্তু একটা রিসার্চের বিষয় হতে পারে, যে, দেখে দেখে উইকেটকীপারদের নামই বা এ’র’ম ভৈরব ভয়ঙ্কর হয় কেন, ডিকওয়েলা, ধোন-ই, ডি কক — কিন্তু এটাই বলতে চাইছিলাম কি? উম্‌ না, মনজিনিস... কি যেন বেশ... মনজিনিস এলো কেন! ওহ হ্যাঁ, চিকেন ইন্টারনেট — ভর সন্ধ্যেবেলা গরমাগরম মন্দ লাগত না কিন্তু কফির সঙ্গে। খেতে। হ্যাঁ, অচেনা আউটলেটের চ্যেইন হলে গুঁড়ো লঙ্কার ঝালের চোটে আক্ষরিক অন্ধকার ত্রিভুবন ব্যেপে নেমেছে ঠিকই, কিন্তু পাড়ার কারখানাটা চেনা থাকায় ম্যানেজ করে করে দিন কেটে যাচ্ছিল বেশ।

 

মসজিদ এপার থেকে চাগিয়ে উঠলে পর, ওপার থেকে, পশ্চিমবঙ্গে, এখন, গীতাপাঠই হয়। করবার মতো সবকিছুই কমতে কমতে সিপিআই(এম) হয়ে গেলে মানুষ ধার্মিক হয়ে ওঠে, মানে, ধম্মো জিনিসটাকে একটু চুদিয়ে ফেলে আর কি! আর আফটার অল, এটা ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন; অতএব, বিনা যুদ্ধে না দিব সূচাগ্র মেদেনী। ধর্মতলায় গীতাকে নামিয়ে নেওয়া হয়; অবশ্য কোথায়-ই বা আর নেবে, নাম-মাহাত্ম্য বলে তো একটা কথা আছে; নামিয়ে নিয়ে এমনকিছু করা হয়, যার জেরে, গীতা, নিম্নবিত্তের ঘরের বউ হলে পোয়াতি হয়, মধ্যবিত্তের বউ হলে প্রেগন্যান্ট হয়, উচ্চবিত্তের বউ হলে কন্‌সিভ করে, আর চাষার বউ হলে পর, তার পেট হয়ে যায়। কিন্তু এই গোটা ইভেন্টটার মধ্যে তুই বানচোত কী এমন পেলি, যাতে করে, ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো, প্রভু’র মতো করে প্যাটিস বিক্কিরি করতে হয়! গীতাকে না হয় কিছু হিন্দু মিলে পেল দিচ্ছে, তাই বলে তুই এর মধ্যে চিকেন প্যাটিস গুঁজে দিবি! চিকেন, মানে, মুরগী, মালাউনের পোঁদে, সরি, মুখে!! তাও কিনা সোকল্ড কাটার বাচ্চা হয়ে!!!

 

বাস্‌, আর পায় কে — মাকুরা দিলো তুড়ুম ঠুকে। তেনুরা ইস্যু পেয়ে গেলো। আর চাড্ডী-বাহিনীর চোখে বাঙালী আর একটু লাট খেলো — সব কুছ মেঁ মছলী-গোস্ত-আন্ডা না গুঁজে দিলে, ইন ভ্যানচোদ্‌ লোগো কো দিল-দিমাগ ঠান্ডা হয় না! তাদের পিঁয়াজ-রসুন প্রসঙ্গ আর আমাদের সত্যনারায়ণের সিন্নি তো ভাই মনুবাদী লাফড়া;- ও নিয়ে কজরা রে-এ-এ মানেই এই গান্ডু ক্যাজড়া করে-এ-এ। গোটা ব্যাপারটা দেখে ঢংয়েরা বললঃ নেকু আমার।

 

কিন্তু হয়ে গেলো। ওই পেট হওয়ার গোছেরই কিছু একটা হয়ে গেলো। আর কী পাওয়া যাবে, মনজিনিস-এর চিকেন ইন্টারনেট? ধর্ম ধর্মতলাতেই আছে, যেমন লুঙ্গির পরে এনগিডি, এই উদোসোদা মোল্লার ব্যাটা বার খেয়ে গীতার তলায় মুরগী পুরে দিয়ে একটা স্বাদু স্ন্যাক্সের পোকা, পোকার ঘর — সব কে সব একঢিলে মেরে দিলো!

 

অনিন্দ্য ঘোষ    ©

আজ — ০৫।১২।২০২৫, রাত

 

 

 

 

 

 

 

  

 

 

ফটো কার্টসিঃ  গুগল ইমেজেস 

 

ঋণঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলিএখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা ও সেইসব গানের অংশভুক সকলকে

 

 

 

 

 

 

No comments: