Tuesday, March 10, 2026

আমাদের পাড়াজীবন অথবা পার্সোনাল ডায়েরিঃ এন্ট্রি — মার্চ ১০, ২০২৬

 

 

পাড়ার সম্মোধনগুলোই আজব। যাঁরা এই আমার মতো টানা কলকাতায় থাকেন, তাঁরা বোধহয় আমার প্রথম বাক্যটাকে ঠাহর করে ফেলেছেন এতক্ষণে। আর করবেনই বা না কেন, এই তো আজ দাড়ি কাটাতে গিয়েছি, যে কাটবে যে জিজ্ঞাসা করলোঃ বিমল আনো নি, অনিন্দ্যদা?

জিভ কাটো লজ্জায় হয়ে বলিঃ তাই তো। তা তুই তো সবে ফোম লাগিয়েছিস, আর রাস্তার ওপারেই তো দোকান। যা না একবার

সে অভয় দেয়ঃ লাগবে না। দেখো না।

বলেই হাঁক দেয়ঃ এ ভাইপো...

ভাইপোকে দেখে চমকে গেলাম আমি। কাকার দ্বিগুণেরও বেশী বয়স তার। থপথপ করে এগিয়ে আসছে দোকানের দিকে চোখ বন্ধ করে চেয়ারের ব্যাকরেস্টের নরমে সমর্পণ করে দিই নিজেকে।

পাড়া এর কোনও ব্যতিক্রম না। আমিও এই পাড়াতে এতকাল কাটিয়ে ফেলার পর আর বোধহয় নই। আমাদের বাড়ীর পিছনে যে বাড়ীটা, সে বাড়ীতে তারা চার ভাই, অন্ততঃ একটা সময়ে তেমনই ছিল, সময়ের বেশ ব্যবধানে জন্মেছে, তো বড়োভাই যে, তার যাওয়ার খবরটা পেয়েছিলাম বড়ো আচমকা, আর তখন আমি অনেক দূরে, ভিনরাজ্যে... হচ্ছিলো যে কথা, তাদের বড়ো ভাই বয়সে আমার বাবার থেকে বেশ খানিকটা ছোট হলেও একসঙ্গে পাড়াদারী করলে যা হয় আনন্দে, আবেগে... মোটের ওপর, বাঙালীর সহগে বারোমেসে সুরভিত অ্যান্টি-সেপটিক বোরোলীনের মতো পেলব হয়ে আসে সব কিছু। দূর থেকেও হ্যাঁ, এটাকে ঠাহর করতে পেরেছিলাম আমি যে, আমার বাবা তাদের বড়ো ভাইয়ের কাছে, দাদা। তা এক ভাই দাদা ডাকবে, অন্য ভাই কাকা, এমন তো আমি শুনি নি কখনও। কাজে কাজেই, সিমেট্রি মানতে গিয়ে বাবা ওদের সব ভাইয়ের কাছে দাদা হয়ে যায়। এত অবধি মুশকিল নেই, মুশকিল নেই কোনও। কিন্তু গোল চক্করটা লাগলো ঠিক তখন, যখন তাদের ছোটভাই, বয়সে আমার চেয়ে বেশ খানিকটা ছোট হওয়ায় আমাকেই দাদা বলে ডাকতে শুরু করলো। আমার বাবা-ই হোঁচট খেয়েছিলো বিষম, শুধিয়েই ফেলেছিলো মজা করেঃ এ... এটা কীরকম হলো আমি তোমার দাদা, আবার আমার ছেলেও তোমার দাদা!

প্রত্যুত্তরে, সে ছোট ছেলে হাসলে লাজুক, আমরা হইহই করে হেসে উঠেছিলাম। পাড়া-গাঁয়ে টুকরো টুকরো আনন্দ ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো, যেটুকু আসে সেটুকু ভালো। আরে, বলব কী... এদের বাড়ীটা হওয়ার আগে তো আমাদের বাড়ীর পিছনে জঙ্গল অথই, মাঝরাতে শিয়ালের শ্রীল ডাক কুকুরের লো ফ্রিকোয়েন্সীর ডাকের ওপর দিয়ে যেত, এখন অবশ্য বিড়াল যেরকম লেভেলের মিমিক্রি শিখেছে...

সেই ছোটভাইয়ের বউ, তার থেকে বছর পাঁচেকের ছোট, আমার থেকে বছর দশেকের, জয়িতার থেকে বছর আটেকের সে কিন্তু বিয়ে হয়ে আমাদের পাড়ায় আসার পর সম্মোধনের সাপ-লুডো খেলাটা ধরে নিতে পারলেই একলাফে মহাসাগর পেরিয়ে সোজ্জা আমেরিকায়, সেখান থেকে ইম্পোর্ট করে আনলো পালক, ছাল-বাকল ছাড়িয়ে জাষ্ট অনিন্দ্য, জয়ী। আমেরিকানদের এটা একটা সুবিধে, তাই না? কোনও ঝপরঝালর নেই, বাপ-মা নাম রেখেছে, ধরে ডাকার জন্য। আ কমপ্লীট আননোন ছবিতে নতুন এক ছোকরা গায়ক নিউপোর্ট ফোক ফেস্টিভ্যালে গাইতে এসে তার ছোটকাকার বয়সী পীট সীগারকে ডেকেই (নাকে হেঁকেই) বসলোঃ ‘হ্যেয়, পীট...

আমেরিকানরা তাদের আমেরিকান ভালোত্ব নিয়ে থাকু, আমি ভারতীয় হিসেবে আমার খারাপ্ত্ব  নিয়ে তবে ব্যতিক্রমী জিনিস মধুর, আর মেয়েটিও বড়ো ভালোবেসে ডাকে আমাদের। আর আমি সব জায়গায় চলে যাই বেমক্কা, আমি দেখেছি, আমি পারি এমন, এইরকম চলে–ভেসে যেতে, কিন্তু ভালোবাসাকে কাঁদিয়ে কখনও কোথাও না। জয়িতাও দেখি আমারই মতো। মেয়েটি, মানে, ছোটভাইয়ের বউ, আমাদের পাড়ার এক কুচিকে এখন শেখাচ্ছে দায়িত্ব নিয়ে, ‘এই জয়ীবলে ডাকতে। আপনাদের বলি, মুখে দুধের গন্ধ, বুকে জনসন অ্যান্ড জনসন বেবি পাউডারের... এতদিন তো ঠান্ডার ভারে তাকে একটা কাপড়ের পুঁটুলি বলে মনে হতো, কিন্তু সেই আধো আধো বোলে নাম শুনতে বড়ো, বড়ো মিষ্টি লাগে।

 

আমাদের বাড়ীর উল্টোদিকে তাকালে আর এক দফা অ্যাসফল্টের জঙ্গল, আর সেখানেই থাকেন ব্যানার্জিকাকু। ব্যানার্জিকাকু ইলেক্ট্রিসিয়ান। ভারী খুঁতখুঁতে লোক, এবং কট্টর তৃণমূল কংগ্রেস-পন্থী। কট্টর বা আলতো গোছের তৃণমূল কংগ্রেস-পন্থী লোকজনদের আমার কেমন লাগে, সে তর্কে না গিয়ে বলি, খুঁতখুঁতে লোক আমার খুব পছন্দের; এর কারণ একটাই, যে কাজটা এঁরা ধরেন, কোয়ালিটি এনশিওরড হওয়ার পর ছাড়েন। আমাদের বাড়ীতে ইলেক্ট্রিকের কাজ প্রায় সারা বছরই হয়। ব্যানার্জিকাকু আমাদের ভরসা। তিনি এলে কাজের ফাঁকে আমাদের গল্প সুখ-দুঃখের, জমে, আর আমি তখন ঝোপ বুঝে কোপ, চাড্ডী হয়ে যাই। বিজেপি’র হয়ে ওকালতি করি লাউড। কাকু দুঃখ পান, প্রতিবাদ করেন, কিন্তু প্রতিবাদে আর কী হয়, বলুন। কম প্রতিবাদ, কম মোমবাতি মিছিল এক্সপেরিয়েন্স করলেন আপনারা! কিছু কি হয়েছে? কিছু কি হওয়ার সভাবনা আছে? তো, একদিন ব্যানার্জিকাকুকে ফোনে বললামঃ কাকু আজ একটু ব্যস্ত আছি। মানে, এই জাষ্ট ফিরলামও। সাড়ে ছতার সোনারপুর লোকালে। তাছাড়া কিছু কাজও রয়েছে। তা আপনি এক কাজ করুন না আপনি কাল সকাল সাড়ে দশটার দিকে আসুন না? কাল আমি সারাদিন বাড়ীতেই আছি।

ব্যানার্জিকাকু নিরুপায়, মিয়োনো স্বরে বললেনঃ কিন্তু কাল তো আমার অফিস

আমি ভয়ানক বিপন্ন মেরে গিয়ে জানতে চাইলামঃ আপনার অফিস মানে? আপনি কি এখনও অফিস করেন নাকি?

ব্যানার্জিকাকু আমার থেকেও বেশী বিপন্ন মেরে গিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ, মানে এখনও তো দু বছর দেরী আছে রিটায়ারমেন্টের।

ফোন রাখলে আমার যে বোধি হয়েছিলো, তার ম্যানিফেস্টেশন নাকি একটা গানেই হয়েছিলো, পরে আমি জয়িতার মুখ থেকে তেমনই শুনেছি দয়াল রে, তোমার অন্ত পাওয়া ভার। অর্থাৎ, ব্যানার্জিকাকুর বয়স এখন আটান্ন। বাবাকে বেঁচে থাকলে বাবার বয়স আশির পারে-পারে, আর আমি এখন বাহান্ন মানেটা দাঁড়াচ্ছে, আমার বাবাকে উদ্দেশ্য করে ব্যানার্জিকাকুর দাদা সম্মোধনটা পাড়ার স্ট্রাকচারে হেব্বি ফিট করে গেলেও আমার বয়সের সাপেক্ষে সেটা ভুলই, কারণ, আমার বাবাকে ব্যানার্জিকাকুর সম্মোধন করা উচিত ছিল কাকু বলে, আর সেক্ষেত্রে, ব্যানার্জিকাকু হয়ে যেতেন আমার ব্যানার্জিদা। খাপে খাপটা ঠিকমতো বসতে গিয়েও বসে উঠতে পারে নি উপলব্ধি করলাম। বোধির পরের উপলব্ধি প্রথম।

 

আমাদের বাড়ীটাকে ক্রিকেট মাঠের পিচ ভাবলে, সদ্য সদ্য ভারত ক্রিকেটের ২০-২০ এডিশনে চ্যাম্পিয়ন হলো, আর কী উপমা দিতে পারি একজন ভারতীয় হিসেবে পাড়ার ডীপ ফাইন লেগে ইতিদিদের বাড়ী।

দিন কুড়ি আগে এক সকালে, লিটার‍্যালি সকাল নয়, আমার ঘুম ভেঙেছে, অতএব আমার সকাল হয়েছে, ঘুম থেকে উঠে শুনলাম, ইতিদির হাজব্যান্ড শতদলকাকুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। খবরটা শুনেই মনে হলো, কতদিন দেখি নি শতদলকাকুকে? পাতি সুতির জামা, আর টেরিকটের প্যান্টের সঙ্গে শান্তিনিকেতনী ঝোলা নিয়ে তাঁর বলিষ্ঠ পায়ের হেঁটে চলা ধারাবাহিক ক্ষীপ্র...  হয়ে গেলো, কমসম করে ধরলে তো বছর পনেরো হবেই। পনেরো অড বছর আগে শতদলকাকুর একটা রোড অ্যাক্সিডেন্ট হয়, যার জেরে সেই তাঁর কোমর ভেঙেছিলো, আর তিনি বাইরে বেরোতে পাতেন নি কোনও দিন, আমারও আর তাঁকে দেখা হয়ে ওঠে নি। শতদলকাকুর অবস্থা ভালো নয় শুনে মনে হলো, তাহলে একবার যাওয়া লাগে ইতিদিদের বাড়ী। গেলাম, হলো কিছু কথাবার্তা, যার কারণে ফিরতিপথে আমার সহসা মনে হলো, এযাত্রা শতদলকাকুর হাসপাতাল থেকে ফেরা কঠিন। মনে হতেই আমি জড়োসড়ো মেরে গিয়েছিলাম।

আমার সবকটা তেতো আতঙ্ক, আমি এটা আমার বাঁচা বরাবর দেখে আসছি, সত্যি হয়ে যায়। দু'দিন পরেই মাল্টি-অর্গ্যান ফেলিওরে শতদলকাকু চার কাঁধের দোলায় চড়ে অন্যত্র পাড়ি জমালেন!

 

তারপর যা হয়, পৃথিবীর গান পৃথিবীর, আকাশের মন-মর্জি আকাশের। তাছাড়া আমাদের বাড়ীতে, আমার মাও যতটা পারছে, শয্যালীনতার ক্যালাইডোস্কোপ ঘোরাচ্ছে মন সেইসব নাকাবন্দীর মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছিলো। একবার এই পিলারে, তো পরেরবার ওই পোস্টে। আমার সাড় ফেরে শতদলকাকুর মৃত্যুর উদযাপনের দিনের আমন্ত্রণে।

শতদলকাকু এবং ইতিদি সুসি না থাক, আজ অন্ততঃ শতদলকাকুর সম্মানে এস ইউ সি আই পার্টি বলি, অন্ততঃ তাঁদের ক্ষেত্রে তো বলি, নিশ্চয়ই বিশ্বাসে, ভালোবাসায় এস ইউ সি আই পার্টির সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শবানুগমনে ওই পার্টির অনেক লোককে আমি হাঁটতে তো দেখেছি। এস ইউ সি আই পার্টি নির্ঘাত বুঝেছিলো যে, তারা একজন সক্রিয়, সচেতন কর্মীকে হারালো।

 

শতদলকাকুর জন্য শ্রাদ্ধ-শান্তি হয় নি কোনও, আর এটা আমাদের পাড়ার একটা ইমপ্লীসিট হেড পেইনের কারণ হলেও আমার মগজে এটা একটা কিছুই না গোছের, বরং বেশ করেছে। ভূত ভোজন করিয়ে অকারণ গ্যাঁটগচ্চা দেওয়ার হাত থেকে একটা মধ্যবিত্ত পরিবার বাঁচলো, ব্যাপারটাকে এভাবে দেখতে চেয়েছি আমি। গোলটা আমার লাগলো নিমন্ত্রণের ধরনে। এখানে খাওয়া তেমন হয়তো হবে না, স্মৃতিচারণটাই এখানে মুখ্য, এবং আমার পুরানো দিনের কথা শুনতে বড়ো ভালো লাগে। আমি তো আর এইসময়ের মানুষ নই, মাঝেমধ্যে হতাশ-ই লাগে কেন অকারণ মাটি কামড়ে ক্রিজে পড়ে আছি, আস্কিং রেট যা দ্যাখাচ্ছে, তাতে করে জিত হাসিল হবে না আমার দলের, আর আমার দলই বা বলছি কেন, এই দল, এই খেলা, এই জিত, এই হার প্রকৃত লিখনে কোনওটাই আমার নয়। তবুও আমন্ত্রণের কার্ডখানি নিতে উৎসুক আমি বাইরে এলে ’পর বিস্রস্ত হয়ে যাই কিঞ্চিত শতদলকাকুর স্মরণসভা। সেখানে প্রত্যেক গল্প-গাছায় বীর-রস, স্বাতন্ত্র্য-রস, হাস্য-রস থাকবে ঠিকই, কিন্তু সবই থাকবে শোকের পাত্রে। প্রিডিটারমিন্ড হয়ে আসার জন্য ব্যাপারটার শেপ এমনই ছিল। আমার। কিন্তু নিমন্ত্রণকারীদের মধ্যে একা ইতিদির পাশের বাড়ীর এক ভদ্রলোক রয়েছেন ইতিদি নেই, তাঁদের পুত্র নেই, তাঁদের কন্যা নেই শুধু সেই প্রতিবেশী এবং তিনিও এসেছেন আমাদের বাড়ী চিনিয়ে আমাদের বাড়ীর কাউকে ডেকে দেওয়ার জন্য। নিমন্ত্রণ করবেন এস ইউ সি আই পার্টির সদস্যেরা। তাঁদের এক কমরেডের কমতি পড়ে যাওয়ার শোক ব্যাপারটাকে এভাবেই ফিগার আউট করে উঠতে পারি আমি। কারণ শোক, সে অন্য জিনিস, বিপ্লবের মতো না হলেও, সমাজবাদী হোল লট্টা সাম্যের মতো না হলেও, তার দামও নেহাত কম না, এবং তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা আপনজনেদের বৃত্তে। কার্ডটা নিই আমি ভাষাহীন, শুধু এক মাথা নাড়া থাকে সদর্থক, আর আমি একদম তখনই টের পাই, এই স্মরণসভায় আমার যাওয়া হয়ে উঠবে না।

 

রাতে, ডিনার টেবলে, যখন প্রায় মধ্যযাম, আর পাড়া প্রায় ঘুমিয়ে গেছে, আমাদের নিঃশব্দের খাওয়ায় নীরবতা ভাঙি আমি। জয়িতাকে জানাই ভাঙা ভাঙা, শতদলকাকুর স্মরণসভার নিমন্ত্রণ বৃত্তান্ত। এতই কম কথায় এবং সময় নিয়ে কথা সারি যে, কথা পেড়ে শেষ করতে করতে আমাদের দুজনের খাওয়া হয়ে যায়, আমি টেবল সাফ করে ফেলি, জয়িতা বোতলগুলোয় জল ভরে ফ্যালে। আমি কথা বলা শেষ করে মার ঘরে যাই মাকে দেখতে, জয়িতা কথা শোনা শেষ করে ওর ঘরে যায় চুল আঁচড়াতে। অতঃপর আমি স্নানে যাই, ফিরে এসে দেখি, জয়িতা ঘুমিয়ে পড়েছে অতল, আর আমি আমার চেয়ারে বসে পড়ি। সেদিন আর কোনো কাজ ছিল না করার। আগে থেকে ছকে রাখা ছিল গান শুনবো, একটা পছন্দের প্ল্যে লিস্টও খাড়া করে রেখেছিলাম ভাষা ভাষা। কিন্তু চেয়ারে বসতেই একটা ভাবনা আমাকে জাপ্টে ধরে সপাট এস ইউ সি আই পার্টি বড়ো নিষ্ঠুর পার্টি। এই পার্টি করতে গেলে একজনকে অনেকটা নির্মিত হয়ে আসতে হয়। আমার কাছে এর একটা বাস্তব উদাহরণও আছে, আর সেই সাক্ষ্যই বোধহয় আমার কথাটা আপনার কাছে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট হবে ধরুন , , গ তিনজন এস ইউ সি আই পার্টি করেন। ক পুরুষ, খ এবং গ মহিলা। ক ভালোবাসেন খ’কে। খ-ও তাই। তাঁদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, যা বিয়ের দিকে টার্ন করতে যাচ্ছে, হুম, বলা যায় একে, বিবাহমুখী। এমন সময় পার্টি রিয়েলাইজ করলো গ-ও বিবাহযোগ্যা এবং গ-এর নীডস অ্যাপ্রাইজ করে পার্টি বুঝলো, ক হচ্ছেন গ এর উপযুক্ত সার্বিক স্বামী। অ্যাকোর্ডিংলি পার্টির নির্দেশ এলো যথাকালে, এবং ক সেটা শুনে তাঁর এতদিনের ভালোবাসাকে বলি চড়িয়ে দিলেন। বলির মাংসটা নিয়ে সেটাকে রাঁধতে সানন্দ চলে গেলেন খ।

এস ইউ সি আই পার্টিতে সদস্যদের বিধিলিপি এভাবে লিখিত হয়। আর তারপর সেটা এনফোর্সডও হয়। সবাই এই বিধান নিয়ে জাঁক করেন সর্বত্র। বিশেষ করে ক, , এবং গ।

এসবই ভাবছিলাম চেয়ারে বসে বসে। শুধু মাত্র আপনাদের উদাহরণ ফেসিলিটেট করার জন্য নয়। ভাবতে গিয়ে মনে হলো, একটা বামপন্থী দলের সদস্যরা তো ঠিক এটাই করবেন যদি তাঁরা আত্মা দিয়ে পার্টির মেম্বার হন। তাঁরা বাম, তাঁদের এই বিধিলিপি বাম, কারণকী, এই যে বিধি, এটা বায় ইটসেল্ফও এই পশ্চিমবঙ্গে তো বামই ছিল এই কয়েক বছর আগে পর্যন্ত। এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে! শোক, প্রেম এগুলো সব ফর্মের মতো, সাময়িক, আর দল, দলের সিদ্ধান্ত হলো গিয়ে ক্লাস, সে চিরদিনের।

শতদলকাকুর আত্মার শান্তি মিলুক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অনিন্দ্য ঘোষ    ©

 

 

 

ফটো কার্টসিঃ  গুগল ইমেজেস 

 

 

ঋণঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলিএখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা ও সেইসব গানের অংশভুক সকলকে