ন্যানোশিপ — নামটা শুনলেই মনে হয় না, এম্মা, তোর ন্যানো দেখা যাচ্ছে তো! শিগগিরি যা, গিয়ে প্যান্ট পরে আয় — মাফিক একটা ব্যাপার? আর কারোর মনে না হলেও আমার কিন্তু এরকমই কতকটা মনে হয়েছে। ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস — এর মধ্যে অবশ্যই বেনিফিট ছিল, কিন্তু তার সঙ্গে বন্ধুতা, বন্ধুতার যে একটা ক্রিটিকাল মিনিমাম দায়বদ্ধতা — সেটাও যে ছিল, সেটা বোধহয় একরকমের সন্দেহাতীত।
মানুষের এবার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে বিপ্লব করতে যাওয়ার মতো দায়ভার ঝেড়ে মাটিতে ফেলে রেখে মস্তি লুটতে যাওয়ার সময় এসে গেলো। যাঁরা এই মতবাদে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, তাঁদের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন করার আছেঃ অজাচার বাদ দিলে (আমি বিরলকে ব্যতিক্রম ধরে নিয়ে প্রশ্নটা রাখছি) মানুষের সঙ্গে মনুষ্যেতরদের ফারাকটা ঠিক কোথায় আর রইলো?! দায়িত্ব নেবো না — এইটা সম্পর্কের প্রতি অ্যাপ্রোচের ট্যাগলাইন হয়, তাহলে একটা মানুষের আর্ত অবস্থায় তার সঙ্গের জন সোজা এক্সিট ওয়্যে ধরবে? ফিল কলিন্সের অ্যানাদার ডে ইন প্যারাডাইস গানটি মনে পড়ছে। মনে পড়ছে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে — তুমি মানুষের হাত ধরো, সে কিছু বলতে চায়।
বস্তুতঃ আমি জন্মভূমি আজ কবিতাটির এই বাক্য দুটি সামনে রেখে তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে চাইঃ কী? এটা তাহলে কী বলছে? আমি এর সম্ভাব্য উত্তরটাও জানিঃ 'ধ্যার্বাল... যত শালা বালের কেত্তন! আরে, আমি হাত ধরবো, বিছানায় তুলো ধামসানোর জন্য। হাত ধরে আমি কি হাসপাতালে নিয়ে যাবো নাকি? এবার বল, সাইকিয়াট্রিস্টের চেম্বারেও নিয়ে গিয়ে একরাশ ফিলদি পাগলাচোদাদের সঙ্গে আমায় সময় কাটাতে হবে। গায়ে চামড়ি পোকা, আর মাথায় বাঁড়া উকুন নিয়ে বাড়ী ফিরবো। কে লিখেছে এই লাইন? বীরেন চাটু্য্যে? সে কে? খেতে টেতে পেতো? পাতো না তো? লাঙ ক্যানসারে বিনা চিকিৎসায় মরেছে তো, সে তো মরবেই, ওসব আল-বাল লিখলে ওই হবে, কপালে লিখিতং ঝ্যাঁটা, মরবি তুই চুতমারানির ব্যাটা—'
দেহের তুলনায় অনেক বেশী আয়তনের জননাঙ্গধারী মানুষ এবার মানুষের ত্বক ছেড়ে পরিপূর্ণভাবে একটা না-মানুষ যে হয়ে যাচ্ছে, সে কথা প্রমাণ করার জন্য পাড়ার রীতা গীতা মিতা-রাই যথেষ্ট। হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টকে লাগবে মানুষের এই মৃত্যুর সফল তদন্ত করতে। আর একটা কথা মানুষের এই মৃত্যু হলে কোনও মানব থাকবে না। কোনও কিছুই যেখানে, সেখানে, সেই কমপ্লীট ভয়েডের কাছে সে কীসের পরিমাপ নিতে আসবে?
একটা সৎলিখনে, মানুষ আর ছাগল — শিশ্নোদরপরায়ণতার দিক থেকে এরাই শেষ কথা হয়ে উঠছে। ন্যাকো এসে সেই যে ফর্মুলা সেঁটে দিলোঃ যার যাতে তৃপ্তি। পৃথিবীর কোনও কিছুই পারভারসন নয় আর। — বাস, আর মানুষকে পায় কে? কতটা নীচে নামলে ‘পরে পাঁকাল হওয়া যায়, সেটা কোঈ ইন্সানসে শিখে!
আমি আমাদের আগের প্রজন্মকে দেখেছি। নিজেদেরকে দেখেছি। আমাদের... ওয়েল, একটু টেকনোলজির প্রতি আবেশের স্কেলে লিখিঃ সাইলেন্ট জেনারেশন ব্যস্ত ছিল মানুষতার ডিটেলিংয়ের অভাবের জায়গায়। আমি তাদের ছেড়ে যদি বেবি বুমার্সদের কথা ভাবি, তারা, আমরা অর্থাৎ জেন এক্সরা, আমাদের পরে মিলেনিয়ালরা কী যৌবন কাটাই নি? নাকি, আমাদের লিবিডো ছিল না? যদি না থাকত, তাহলে এই জেন জ়ি, জেন আল্ফা, জেন বিটা এরা এলো কোত্থেকে! এদের আসাটাই প্রমাণ করে আমাদের ঠিক সেসব তাড়ন ছিল, যা এদের আছে। কিন্তু কই, লিবিডো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে যেতে এতটাও তো বাইরে যায় নি আমাদের, যার কারণে সব দায়-দায়িত্বকে পাষাণ চাপিয়ে দেওয়া সাফোকেটিং লাগবে!
এনিওয়ে, ছাগল কিন্তু বলি হয়, জানেন। ফ্রয়েড যে ফ্রয়েড, যাকে পড়ে ফ্যাক করে হেসে বলেছিঃ ব্যাটা অক্সিদেন্তাল। প্যেইন আর প্লেজারের মধ্যে ক্যালকুলেটর বসাতে চাইছে!
ওরিয়েন্তালদের আনন্দ বলতে তো ছিল, কী সব সচ্চিনানন্দ-ফচ্চিনানন্দ ব্যাপার — সেসব আমরা কেউই প্রায় তলিয়ে পড়ি নি, কিন্তু সেসব যে উত্তরাধিকার হিসেবে রয়ে গেছে অন্দরে — টের পাই। এখন। এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সাপেক্ষে। নইলে টেরটাও পেতাম না। কিন্তু কতদূর অবধি রয়ে গিয়ে হাত ছেড়ে দিলো সে উত্তরাধিকার, সরি, সে সচ্চিনানন্দ দ্য গ্রেট? ফ্রয়েড তো তবু প্লেজার বলতে গিয়ে প্যেইন শব্দটা উচ্চারণ করেছিল, বলেছিল, প্যেইনের অভিজ্ঞতা না থাকলে প্লেজারের ক্যালকুলেটিং পাওয়ারটাই আসবে না। আর এই জেন জ়ি তো, প্যেইন শব্দটার আগেই সম্মার্জনী বসিয়ে দিলে, আর তারপর… ঝেড়ে দিলে! এরা প্লেজারকেই বা ঠাহর করবে কী করে? নাকি, এরা প্লেজারের এক-একটা সেট হাতে বসবে, আর তারপর, প্রায়োরিটাইজেশন চালাবেঃ লুটে নেবো সবই, সবই সাফ করে দেবো। ফেলা যাবে না কিস্যুই। তবে কিনা কোন্ প্লেজারটা আগে লোটার, আর কোন্টা পরে লুটলেও চলবে — প্রোগ্রামিং করছি সেটাই।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, পেট আর তলপেট নিয়ে ফিদা হয়ে যাওয়া মানুষের, আনলাইক ছাগল, যেহেতু, এথিকাল নলেজ, বাউন্ডারি আছে, অ্যাট লিস্ট ছিল অন্ততঃ, আর সেটাকে পোড়ানো হয়েছে নিজেদের স্বার্থে — এগুলোকে পেয়ে, বুঝে, তারপর নস্যাৎ করতে যাওয়ার জন্য মানুষের অপরাধের গভীরতা ছাগলের চাইতে তো অনেক বেশী। তাহলে, লাতাড়ে নর-নারী বলি কবে থেকে শুরু হবে?
https://www.youtube.com/watch?v=0DXR1njTqXg
অনিন্দ্য ঘোষ ©
ফটো কার্টসিঃ গুগল ইমেজেস ।
ভিডিও কার্টসিঃ ইউটিউব
ঋণঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলি। এখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা ও সেইসব গানের অংশভুক সকলকে।
No comments:
Post a Comment