বঙ্গ হৃদয় গোমুখী হইতে করুণা-গঙ্গা বহিয়া যায়
এসো ছুটে এসো, কে আছো মানব, শুষ্ক-কণ্ঠ পিপাসায়
সেই সুদূর ছোটবেলা থেকে আজ এই সেমি বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত গঙ্গাকে জাষ্ট একটা নদীই বলে মনে করে আসতে পেরেছি আমি; এর বেশী কিছু... সরি স্যার, কোনও দিন ষ্টকই ঢোকে নি। আধো আধো বোল, জানি না কারোর মনে বাৎসল্যের দোল লাগিয়ে ছিল কিনা, তবে এটা এনসিওর করতে পারি যে কারোর কানে কানে বলি নি কোনও দিন; যখন কিনা ফুটেছে, তখনই গঙ্গা, সিন্ধু, নর্মদা গানটাকে খিত্তিব্যি করে গাইতাম গঙ্গা, সিন্ধু, নর্দমা।
আসলে বোকাতোদা ছাড়া স্ল্যাঙয়ের ভাঁড়ার তখন ঠনঠন করছে (যদিও বোকাচোদা কোনও অপশব্দ নয়, এটা একটা কনোটেশন, যার মূল মানে — এমা, তোর বিধবা মা আমিষ খায়!), তাই অতদূর অবধিই পারা গিয়েছিল। যেমন এই লেখাতেও গঙ্গাকে যে আদৌ মহান কিছু দেখানো হবে, তা না। নদী নদীই, তা সে হিমবাহ চুঁইয়ে আসুক না কেন কিংবা শিবের জানু চিরে জাহ্নবী হয়ে আসুক না কেন। আর জাহ্নবী বললে আমি শ্রীদেবী-তনয়ার প্রতি বেশী ঔৎসুক্য ফিল করব, দেখি নি কোনও দিন, ফলে জানিও না, মায়ের মতো মোহময়ী সে হয়ে উঠতে পেরেছে কিনা!
কেউ বলতেই পারেন, পাড়লে বাপু গঙ্গার কথা, আর চলে গেলে কিনা নারী-রূপের মানডেন মোহতে! সেক্ষেত্রে আমি মুচকি হেসে একে একে ঋষি-মুনিদের ইন্সট্যান্স টানব। আধো আধো বোলকে যদি বুকের আঁচল একান্ত ঢেকেই রাখে, তাহলে সে বোলকে এক্সপ্লোর করতেই হয়, বোনাস হিসাবে একটা ফর্সা ক্লীভেজ দেখতে পাওয়ার, কাছ থেকে, নিঃশ্বাস পড়লে যেন টেরটি পায় এমন কাছ থেকে একটা ফর্সা, নির্লোম, পরিষ্কার আর টানটান চামড়ার ক্লীভেজ দেখতে পাওয়ার সুযোগ যদি মেলে!
কেউ কেউ, অবশ্যই তাঁদের পুরুষ হতে হবে, ‘ক্লীভেজ’ শব্দটার আগে বিশেষণের বহরের সঙ্গে প্রায় সহমত হয়তঃ হলেও হয়ে যেতে পারেন; তাঁদের খটকাটা রয়ে যাবে ‘ফর্সা’ শব্দটার জন্য। উত্তর হ্যায়ঃ আজ্ঞে, শ্যামলা ক্লীভেজ শীতলতা দেওয়ার জন্য, যখন মানুষ পোড়ে; আর ফর্সা ক্লীভেজ শীতলতা অর্থাৎ একরকমের উম, এবং যখন কিনা চারপাশে শৈত্যের ধারালো কামড়, তখন ওম — এই দুই-ই দেওয়ার জন্য। একজন মেধাবী (কে বে?) বেনেফিসিয়ারি হিসেবে আমি তো চাইবই আমার সব অপশন খুলে রাখতে, ইউটিলিটি অপ্টিমাইজড হওয়ার প্রভিসন খুলে রাখতে। বর্ণবিদ্বেষী? বলতে পারেন; যে যে বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে জন্মেছি আর কি, স্বধর্ম থেকে চ্যুত হওয়া কি ভালো, আপনারাই বলুন?
নদী বললেই আমি ভক্তিগীতি থেকে ছিটকে যাই, এ কূল ভেঙে ও কূল তুমি গড়ো, যার এ কূল-ও কূল দু’কূল গেলো, তার লাগি কি করো? তার যে চক্ষে-বক্ষে পিপাসা। বাঁচার। টিঁকে যাওয়ার।
আসলে গঙ্গা নয়, সাহিত্যিক সমরেশ বসু যে ধ্যাড়ানো ধেড়িয়েছেন তারপর থেকে গঙ্গা দেখে চার আনা পয়সাও ছোঁড়ে না বাঙালী, দশ, বিরল বিশের কয়েন যা ছোঁড়ে সব পশ্চিমারা, তাদের গঙ্গা মাঈয়ার বুকে।
রইলো পড়ে গোমুখ, দু’বার গিয়েছি; এহঃ ভাই, সিম্পলি বেড়াতে, তা প্রথমবার গ্লেসিয়ার ফাটলো, তলিয়ে গেলো বেশ কিছু মানুষ। উদ্ধার কাজে সামরিক বাহিনী এসে ওঠার আগে পরনের কৌপীন খুলে বেশ কিছু প্রাণকে টপাটপ বাঁচিয়ে দিলো সাধুরা। উদোম সাধুদের ছাইমাখা সেসব সাদাটে নগ্নতার দিকে উপস্থিত কোনও মহিলার চোখ টেরিয়েও গিয়েছিল বলে মনে হয় না আমার। এমনিতেই ভারতীয় মহিলারা যৌনতা প্রসঙ্গে যথেষ্ট নীরব, এখনও; কিন্তু সাধুদের জায়গায় যদি সাধুনী থাকত, এবং তারাও বুকের আর কোমরের কাপড় খুলে বাঁচাত কোনও প্রাণকে, মুখে হর হর মহাদেও’র সমবেত স্তনন, আমি হলফনামা দিতে পারি কোনও পুরুষ-চোখও যেত না, যেতে পারত না সেইসব তথাকথিত মহিলা শরমাঙ্গের দিকে। আসলে মাথার ওপরে যখন মৃত্যুর সামিয়ানা, তখন মানুষ নিজের অজান্তেই রিপু দমন করা শিখে যায়। কিংবা হয়তঃ ঘোরতর অস্তিত্ববাদী হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় ভ্রমণে গোটা প্ল্যানটাই ছিল ভুলভাল, নইলে কেউ, রুটি আর আলু-জিরা আর সঙ্গে দু কাপ দুধ চা দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে গঙ্গোত্রী লিভ করে! সুদর্শন পাহাড় দেখতে দেখতে এই ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে... আজ্ঞে না, ওসব হীরে মানিক সিনিমাতে হয়। পিঠের ব্যাগপ্যাকে যখন একটা লিটারের জলের বোতল আর কমন শেরপার কাছে থোওয়া রুকস্যাকে একটি সবেধন নীলমণি দু লিটারের সিলড প্যাক, তখন বড়ো কিছু কাজ কি গো সহজে হয়, কষ্টকে মনে করো, কষ্ট নয় গাওয়া যায় না। কেননা তখন অ্যাসিডিটি হয়ে বুক শুকিয়ে যায় তেষ্টায়, বারংবার, ও ফলতঃ, শুদ্ধ ভাষায় বলতে গেলে, যাকে বলে, গাঁড় ফাটে, সেইটি হয়। তপোবন ট্রেক, আইটিন্যের্যারি, লাল বাবার আশ্রম, সেখানকার ফারদার ট্রেক — সব জলে তলিয়ে গেলো। কোথাকার জল আবার? — ওই গঙ্গার স্খলিত বুকে। প্রতিশোধ হিসেবে কিছু বমি মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম গঙ্গার জলেঃ যাহ শালী, ডাক রামকে কত ডাকবি, তোকে মইলী করে দিয়েছি গতরাতে খাওয়া রাম দিয়ে। তবে প্রতিশোধের পরাকাষ্ঠা হিসেবে পরদিন ভুজবাসায় হা-ক্লান্ত ঘুমিয়ে উঠে, ত্রিশ টাকা দিয়ে ছোট ম্যাগী খেয়ে অনেকটা মুতে এসেছিলাম সমান্তরালে বহে যাওয়া গঙ্গার বুকের ওপর। অনেকটা হেঁটে যেতে হয়েছিল অবশ্য কিন্তু তখন বুকের মধ্যে বদলার আগুন ধেইধেই করছে, পার হেড কুড়ি হাজার টাকা বেবাক জলে; শরীরের অবস্থা যা, তপোবন সেবার দ্য ট্রিপ দ্যাট ফেইলড হয়ে গিয়েছিল।
তাহলে গঙ্গা গেলো, করুণা গঙ্গা তো আরও গেলো, গোমুখও গেলো, অর্থাৎ সবই গেলো। পড়ে রইল কি তাহলে? — কেন, গঙ্গা, করুণা-গঙ্গা, গোমুখ চলে গেলে যেটা পড়ে থাকে সেটা;- পিপাসার্ত, অগণন মানুষ, যাদের ছুটে গিয়ে কোনও পরিত্রাণ পাওয়ার জায়গা নেই।
জলের আর এক নাম জীবন — এ আমরা সবাই কম-বেশী জানি;- কেউ পুঁথি পড়ে, কেউ বা আবার জীবনের যাপন দিয়ে। যেটা জানি না, তা হলো, জলের এত খাড়ুশ কোয়ালিটি; আমি, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়েন, অনেক বড় জায়গা হয়ে যায়, দক্ষিণবঙ্গের কথা বলছি। মূলতঃ গঙ্গার (আইল্যা, এবার ভীষ্ম খচে গেলেই চিত্তির। এতবার তার মা তোলা হচ্ছে... বুড়ো যদি একটা খিঁটকেল ব্যুহ তৈরী করে ব্রহ্মাস্ত্র-ফ্রহ্মাস্ত্র ছুঁড়তে শুরু করে, দফা একদম তিনশো দো অউর দো দো-পাঁচ হয়ে রফা মেরে যাবে, ব্লগ মারানো বের হয়ে যাবে) পূর্ব আর পশ্চিম পাড়ের কথা বলতে চাইছি। এ অঞ্চলের মানুষের জল খেতে (বাঙালী চীনেদের থেকেও খেকো জাত, এরা সবকিছুই খায়!) যাওয়ার আগে তিন নয়, ত্রিশবার অন্ততঃ ভাবা উচিত। খুব সহজে বলতে চাইলে, মশাই একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন? ― এরকম কেউ শুধোলে উত্তরটা অবাক জলপানের চেয়েও জাড্যাপহ হতে পারে, হওয়া উচিত।
এ’কথা আজ সবাইয়েরই জানা যে আরোগ্য-সম্ভব এমন সব পেটের অসুখের বেশীরভাগটাই জলবাহিত, মোর স্পেসিফিক্যালি, জলে থাকা ব্যাক্টেরিয়া-বাহিত। যে ভৌগলিক অঞ্চল আগে উল্লেখ করেছি, সেখানকার জলে হেন কোনও ব্যাক্টেরিয়া এ ধরাধামে নেই, যা আপনি পাবেন না। পেত্যয় যাচ্ছে না? বেশ তো, যেখান থেকে খুশী জল নিয়ে ল্যাবে পাঠান, দুধ কা দুধ, ব্যাক্টেরিয়া ভরা পানি কে পানি হয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে একজন ভুক্তভোগী হিসেবে জানাই, ড্রিংকিং ওয়াটার-বোর্ন ব্যাক্টেরিয়ার কারণে পেটের যে কোনও সমস্যায় আপনি যে অ্যান্টিবায়োটিক খান, সেগুলো নিশ্চয়ই আপনার প্যাটে গোল পাকানো ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে পরশুরাম (এ আবার ভীষ্মের গুরু, অপিচ, পরে ভীষ্মের হাতে হেরেওছে)-এর পৃথিবীকে নিঃক্ষত্রিয় (এক ডোজে একবার) করার মতোই নির্বংশ করে দেবে, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে পেটের মধ্যে থাকা ভালো ব্যাক্টেরিয়াগুলোর পিছনেও আছোলা বাঁশ পুরে দেবে। এ থেকে বাঁচবার জন্য, অর্থাৎ ভালো ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে রেস্টোর করার জন্য আপনাকে ইকোনর্ম জাতীয় ওষুধ খেতেই হবে, নতুবা? — পস্তাবেন।
পেয় জল নিয়ে এই যে এতক্ষণ জ্ঞানপ্রবাহ চালাচ্ছি, এটাকেই সংলাপ করে কেউ যদি মঞ্চস্থ করতেন, এতক্ষণে উইংস থেকে সাইডটক এসে যেতঃ হ্যাঁ র্যা, এ মালটা কে র্যা? জল নিয়ে বুকনি মারাচ্ছে, জল কতটা কি আছে এখানে, সেটা জানে?
সেই করুণ কাহিনীতে যাওয়ার আগে জল এবং জল দূষণ নিয়ে আর দু কথা বলি, ধৈর্য্য নিয়ে কাইন্ডলি শুনুন। পানীয় জলের সোর্স দুরকমঃ সারফেস ওয়াটার আর গ্রাউন্ড ওয়াটার। সারফেস ওয়াটার, অ্যাজ দ্য নেম সাজেস্টস, আপনারই তলে আছে; আর তাহলেই বুঝে নিন কন্টামিনেশন কোন্ জায়গায় যেতে পারে;- ফি বছর স্যিউরেজ সিষ্টেম ঠিক না থাকার কারণে আপনার এলাকা ওয়াটার লগড হয়, সারফেস ওয়াটারের মা-মাসী হয়ে যায়, এর সঙ্গে যোগ করুন মরে মরে আসা, কিন্তু বেঁচে থাকা অঙ্গুলিমেয় কলকারখানার বর্জ্যগুলোকে, যা কিনা মূলতঃ কেমিক্যাল স্টাফস... কি বুঝছেন? ছাড়ুন, গ্রাউন্ড ওয়াটার প্রসঙ্গে আসি। সেখানে আসতে গঙ্গার শরণ না নিয়ে উপায় নেই, আবার না নিলে, অর্থাৎ না বললে কোন্দিন ওঁ গঙ্গা হয়ে যাবেন ওই প্যাটেরই কারণে কে বলতে পারে! দক্ষিণবঙ্গে গঙ্গার পূব পাড়ে যে সমস্ত জেলাগুলো রয়েছে, সেসবগুলোর পেত্যেককটা সেঁকো বিষের আড়ত ধরে নিতে পারেন। আর্সেনিকের একটা হিসেব, যেটা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক দীর্ঘদিন আগেই দিয়েছিল, তার তালিকাটা প্রণিধানেবল হতেই পারে।
সব কথা বলা হলো, বাকী রয়ে গেলো কিছু শুনিতে যদি হয়ে থাকে, তাহলে বঙ্গ-হৃদয় সম্পর্কে দু’কথা লেখার;- আচ্ছা, বঙ্গ-হৃদয়ে এক্স্যাক্টলি কি আছে বলুন তো... বুকভরা মধু বাংলার বধূ, যাকে ডাকিনী, যোগিনী, শত শত নাগিনী কিংবা পিশাচে খায়; তারাও তো বঙ্গ-হৃদয়ের একটা অংশ; তবুও এই বঙ্গ-হৃদয়ে বাল আছেটা কি? এর উত্তরের জন্য হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতে রাজী আছি পৃথিবীর পথে, কিংবা গেয়ে উঠতে পারি গানঃ আমি রাজী, রাখো বাজী, এক ডুবে ভরা নদী (গঙ্গা নয়, গঙ্গা নয়) হয়ে যাবো পার… এতটা আশা কোথা থেকে আসে? এত চাকরীর নামে শঠতা, এতটা অনিশ্চয়তা, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ষণ ও খুনের এতটা ক্লীন্নতা, সামান্য একটা ভোটে শাসকদলের এত জয়োল্লাস যে তার দমকে এক বালিকার মৃত্যু ঘটে যায়, অনৃত লিখন না করতে কি একটা রাজ্যে এতটা নৈরাজ্য, এত মৃত্যু মিছিল... তবু মানুষ কি করে গল্প লেখে, গান গায় প্রাণ ভরে, কি করে আধমরা আশা তবু, পুরোপুরি মোলো না!
তাহলে, আসুন স্বীকার করি, গঙ্গা পবিত্র! তার পূণ্যতোয়া জলে মুক্তি লেখা আছে!
কিন্তু কার মুক্তি, আর কে-ই বা লিখেছে সেটা। ওসব তো মনে-টনে পড়ে না; যেটা মনে পড়ে — সেই কবে তখনও এই মিলেনিয়াম আসে নি, কিন্তু পীট সীগার এসেছিলেন কলকাতায়। নজরুল মঞ্চে ব্যাঞ্জোর স্ট্রিংয়ে কর্ডিং করতে করতে একসময় থেমে গিয়ে বললেনঃ ভারতবর্ষের ইতিহাসে গঙ্গা নদীর অবদান অনেক। এই নদীমাতৃক দেশের মানুষ আপনারা, আপনাদের মন বড়ই কোমল। জানেন নিশ্চয়, আমাদের দেশেও এই গঙ্গার মতো বেশ কয়েকটা নদী আছে, তার একটার নাম হাডসন। আমরা হাডসন নদীকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করছি। আর আপনাদের এই বিখ্যাত শহরে, যা কিনা এই দেশের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, আসার আগে আমি বেনারসে গিয়েছিলাম। এ কি হাল হয়েছে আপনাদের গঙ্গার! আসুন, আজ সন্ধ্যায় আমরা একটা প্রতিজ্ঞা করি, গঙ্গাকে বাঁচানোর।
গঙ্গা বাঁচে নি সে কথা স্বতন্ত্র, কিন্তু যদি বাঁচত, তাহলে মানুষে বাঁচাত, না বাঁচিয়ে মেরে ফেলছে সে অলগ বাত; তাহলে গঙ্গার যে এই মাহাত্ম্য, তার জলের যে পুণ্যতা — এই সবই যে তোমার দান, যত বিশেষণ সবই তোমার, যত ভালোবাসা সবই তোমার। তপোভূমির নর্মদাকে — একবার আমি দূর হতে সে নদীকেই দেখেছি, এবং হ্যাঁ, অবশ্যই মুগ্ধ এ চোখে চেয়ে থেকেছি। মুগ্ধ, কেননা, তখনও নর্মদা পশ্চিমাভিমুখে তার যাত্রা শুরুই করে নি; অমরকন্টকে, জব্বলপুরে, পাঁচমারিতে সে তখনও মুখড়া গাইছে, শুনেছি, তার অন্তরা বড়ই করুণ, যেমন কিনা গুন্টুর থেকে কৃষ্ণা নদী, ফটো তুলবো কি, মনে হয়েছে, দু’ বালতি জল ঢেলে দিয়ে এলে নালাটা বাঁচে। অথচ রাজমুন্ডরি থেকে গোদাবরী দেখা এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা, জলের স্রোতের ভারী শব্দের ঠিক পিছনে নয়নাভিরাম রেল ব্রীজ... মানুষেই বানিয়েছে। নেচার ফটোগ্রাফি প্রসঙ্গ বাদ দিলে এতে মুগ্ধতা ছাড়া আর কি রাখা আছে? সুতরাং, ফট যদি গঙ্গা এখনও না হয়ে গিয়ে থাকে, এবং তার সে জীবন যদি পবিত্রতার হয়, তবে সে পবিত্রের সবটুকু মানুষের অর্পণ করা। গঙ্গা গ্রহণে ধন্য হয়েছে মাত্র।
অনিন্দ্য ঘোষ ©
প্রঃ ২৫শে জুন, ২০২৫ এর লেখা ৬-ই জানুয়ারি, ২০২৬ তে ব্লগে গেলে কেমন হয়?
উঃ কেন, এইরকম হয়।
ছবিঃ দেবো না।
ঋণ/রেফারেন্সঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলি। এখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা ও সেইসব গানের অংশভুক সকলকে।
No comments:
Post a Comment