Friday, December 30, 2022

পাপ-পূণ্য

 

 

পাপ দিয়েই রাত্রি জাগরণপাপের হুল্লোড়ময় উদযাপনের মধ্যে দিয়েই, অগোচরে, ব্রাহ্ম মুহূর্ত কেটে যায়আলো ফুটলে পর নয়ন মুদে ফেলিচতুর্পাশ্ব এঁটে দিনকে এড়াই, ঘুমের ইচ্ছে নিয়ে, যেন বা বিষাক্ত শিয়রচাঁদা, তার শীতঘুম যথা

 

পাপ আর বেঁচে থাকা মিলে, আমার জীবনের রাস্তাটাতে, নাগরিক সড়কের মতো, ডোরাকাটা দাগ ফেলে যায়, ইতস্ততঃ ব্যবধানে

 

এই যে অ্যাত্তো পাপ, যা রাতের পর রাত জুড়ে, পাহাড়, এবং তার চূড়ায় বরফ মাফিক সাদা পাপের হিমবাস; তার ভিতর, ওই পাহাড়ের প্রত্যেক পাথরে কোঁদা পাপের ভিতর, কিন্তু একটা স্বপ্ন থেকেই যায়

 

...একদিন পূণ্য দিয়ে রাতে জেগে থাকতে পারবোসেই একদিন, ক্রমশঃ অভ্যাস হতে থাকবে; কেটে যাবে পাপের কুয়াশা; ভূমিকম্পের মতো কোনো এক সবল বিপর্যয়ে নস্যাৎ হয়ে যাবে পঙ্কিল পাহাড়কিংবা, হয়তঃ হবে না এসব কিছুই; - শুধু পাপের পাহাড়ের পাশে অভ্রংলিহ আকাশ-ছুঁতে-যাওয়া পূণ্যের পাহাড় উঠবে; উঠে পাশের পাপের পাহাড়ে দিকে, তাকিয়ে মুচকি হাসবে সেতাকে ঘাড় নীচু করতে হবে, ওই হাসিটুকুর জন্য, এমত উন্নত হবে তার শির

 

আর আমি এবং আমার পাশে থাকা অন্যরা, পাশাপাশি দুই পাহাড় থেকে আবারও নতুন করে শিখে নেবো পাপ-পূণ্য; ব্যধাই দেবে সবাই আমায়, এক জীবনেই, দুই বিপ্রতীপে থাকা পাহাড়দ্বয় নির্মাণের জন্যঅথচ নির্মাতা তো আমি নই; আমি, শুধু, নিঃশ্বাস নিয়েছি আর প্রশ্বাস ছেড়েছি মাত্র

 

অথচ টের পাই, এক পাহাড়ের ভিতর থেকে আর এক পাহাড়ের জন্ম হচ্ছে, দ্রুত বৃদ্ধি হচ্ছে তার, এই হারে চললে, খুব শিগগিরই পাপের পাহাড় ফেটে তছনছ হয়ে যাবেসারা গায়ে পাপের কলুষ মেখে মাথা উঁচু করে আকাশ ছুঁতে যেতে যেতে সে পাহাড়ের গায়ে লেগে ঠিকরে ফিরবে প্রতিধ্বনি যে, পাপ বা পূণ্য; জীবনের যাপনে, কোথাও নেই, বরং, একে অন্যের পরিপূরক মাত্রজীবনের মধ্যে শুধু বেঁচে থাকা আছে, বেঁচে নেওয়াও নয়, আর সেই বেঁচে থাকার জন্যই পূর্ব-সংজ্ঞায়িত পাপ বা পূণ্য; যা প্রতিমুহূর্তে পাল্টে যায়অনবরত পাপ বা পূণ্যের জায়গা বদলের নামই হলো জীবনতার উদযাপনঅস্তিত্বতাবৎ

 

...তখন আমি, আমার অন্দর-বাহির ফেটে চৌচির হওয়া আমি, কি নিয়ে বাঁঁচবো; কি নিয়েই বা বেঁচে এলাম, ভেবে ভেবে সারা হবো; সারা এইকারণেই, যে, যদি, যদি কেন, নিশ্চিত, পাশ থেকে কেউ বলে উঠবে, 'এই, আজ থেকে তোমার শুরু হলো' তাহলে ফেলে আসা দিনগুলো? আবারও প্রতিধ্বনিত হবে সেই স্বর, 'ওগুলো পাপ ছিলো, নাকি পূণ্য, সেটা কোনোদিনই জানা যাবে নাওগুলোর অস্তিত্বও কালের নিয়মে রাস্তার ধূলো হয়ে যাবেবেঁচে থাকার রাস্তার'

 

 

 

অনিন্দ্য ঘোষ ©

ফটোকার্টসিঃ গুগল ইমেজেস

 

ঋণঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলি এখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা সেইসব গানের অংশভুক সকলকে

 

 

মায়ের কথা

 

 

 

সদ্যসমাপ্ত মায়ের শারদাগমন আর তারপর বিজয়া দশমী দিন মায়ের ফিরে যাওয়া, কৈলাসে, নিজগৃহে, স্বামী সমীপে। আনন্দেরই তো দিন, তবু চোখ ভেজে, আমাদের, এমনকি মায়েরও !  জয়া ছায়াছবির গানটা বড়ো মনে পড়েঃ নবমী নিশি রে, তোর দয়া নাই রে, / তোর দয়া নাই রে, তোর দয়া নাই / এতো করে সাধিলাম, তবু হইলি ভোর...

 

ভেবে এটা, বড়ো ভালো লাগে, যে, শ্রাদ্ধ স্বস্ত্যয়ন, তর্পণ সবকিছুতেই বিষ্ণু অর্থাৎ নারায়ণের জয়জয়কার। ভাবলে তার কারণটাও পাওয়া যায়; - এ জগতে প্রতিপালক তো শ্রী বিষ্ণুই। তবু অনাদি, অনন্ত শ্রী মহাদেবের কাছে, প্রিয়জনের জন্য কিছু বলতে চাইলে তার মন্ত্র আছে কিন্তু তারা মায়ের জন্য নেই ! অথচ অদর্শিত, অবর্ণিত, অনাস্বাদিত (সাতটা আছে, আমার, এই মুহূর্তে, তিনটের বেশী মনে না এলেও), সেই আদি, শূন্য, পরমব্রহ্ম অর্থাৎ ওঁ থেকে প্রথমে স্ত্রী শক্তির উত্থান, আর তার পরে, সেই স্ত্রী শক্তি থেকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের আবির্ভাব।

 

... তবুও, অ্যাতো কিছুর পরেও তারা মায়ের জন্য মন্ত্র নেই !

 

বুঝতেই পারি না, শালা, হেসে উঠে সব তছনছ করে দেবো, না, কান্নায় সবকিছু গলিয়ে দেবো।

 

একটা জিনিসই দেখে / শুনে ভালো লাগে যে, বছরের তামাম দিনগুলো পিতৃপক্ষ হলেও, মাতৃপক্ষের সবকটা দিন শুভ; যে কোনো ভালো (পোস্ট মর্ডানিজম 'ভালো' এই শব্দটার ওপর যথেচ্ছ প্রশ্নপাত করলেও) কাজের শুভারম্ভ এই দেবীপক্ষের যে কোনো দিনেই করা যায়, কারণ একটাই, দিনের শেষে, তিনি তো মা-ই।

 

আর সন্তানের সর্বমঙ্গল সাধনের জন্য মা কি-না করে থাকেন...

 

 

অনিন্দ্য ঘোষ ©

 

ঋণঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলি এখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা ও সেইসব গানের অংশভুক সকলকে