অপোনেন্টকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে খেলতে সুইজারল্যান্ড বোধহয় ভুলে গিয়েছিল, ওরা এক গোলেই এগিয়ে আছে। একটাই সঠিক নিশানা প্রয়োজন দুর্বল প্রতিপক্ষের, আর তাহলেই...
একটা পয়েন্ট সুইজারল্যান্ড মাঠে রেখে এল!
জুন, ১৪
মরক্কো ডিফেন্স করছে। কোথায় করছে? মুররা ব্রাসিলের পেনাল্টি বক্সে নিজেদের ডিফেন্ড করছে। অর্থাৎ ব্রাসিল যেন তাদের হাফে আসতেই না পারে। এই ১১ মিনিট পর্যন্ত এত দ্রুত গতির পরিচ্ছন্ন ফুটবল চোখের আরাম দেয়। ধন্যবাদ, মরক্কো।
ব্রাসিলের ভিনিসিয়াস, নেইমার কোথায়!!!
কোচ কি তাদের নামানোর প্রয়োজন মনে করেননি?!
জুন, ১৪
অসামান্য মুর-ফুটবল। কী ঠান্ডা মাথায় গোলটা করে গেল!
এদের আত্মবিশ্বাস দেখে মনে হচ্ছে চূড়ান্ত ফর্মে থাকা ইউরোপের কোনো মাল্টিস্টারাল দেশ। লম্বা পাস খেলছে, ছোট পাস খেলছে, কিন্তু বল পায়ে রাখছেই না! এত স্পীড তৈরী হচ্ছে সেই জন্য।
দেখা যাক, ৯০ মিনিট এরা এই গতি ধরে রাখতে পারে কি না...
জুন, ১৪
ব্রাসিলের চিরকালের স্বভাব হল একের বিরুদ্ধে একজন যখন বল চেজ করতে যাচ্ছে, তখনই অপোনেন্টের গোড়ালিতে মারা, অ্যাজ ইফ, অন দ্য মোশন হচ্ছে। কিন্তু বারবার ইললজিক্যাল ট্যাকল হলে বলতে হয় সেগুলো ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিত। ব্রাসিল স্কিলের সঙ্গে এইরকম চোরাগোপ্তা মারও প্র্যাক্টিস করে।
এগুলো রেফারির চোখ এড়ায় কী করে কে জানে! অথচ সেকেন্ড ইয়েলো কার্ডটা মার্জিনাল!
কিন্তু ভিনিসিয়াসকেই দ্বিতীয়বার পাস করাকে অসাধারণ ফুটবল মেধার পরিচয়। পুরো মরক্কো দলটা দাঁড়িয়ে গেল এক জায়গায়।
এখনো আমি অবাক হয়ে আছি মুরদের ডিফেন্স করার ধরনে। একটা জোনাল মার্কিং তো করছেই। কোনো খেলোয়াড়কে না ছুঁয়ে পাসটাকে ইন্টারসেপ্ট করার চেষ্টা করছে। এবং যে ইন্টারসেপ্ট করতে যাচ্ছে, তার ডিরেকশনে এবং ইম্মিডিয়েট সামনে একজন মুর খেলোয়াড় রয়েছে, যাতে পাসিং অ্যাকুরেট হয়, এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক করা যায়। ইন্টারেস্টিং!
জুন, ১৪
নেইমার যদি সুস্থ থাকে, তাবে তাকে না নামানো মূর্খামি। অপোনেন্ট জোনাল মার্কিং করছে স্পেস ছেড়ে, এই অবস্থায় একজন বুদ্ধিমান বলপ্লেয়ার, যার পায়ে ডজ আছে, চোরা গতি আছে, সে ফারাক গড়তে পারত।
জুন, ১৪
একমাত্র জার্মানরাই এরকম ক্যাজুয়াল শটে গোল করে যায়। কী করে গোলের মুখ দেখতে পেল কে জানে! তখনো অপোনেন্ট ভাবছে আরও কয়েকটা পাস খেলবে, গোলের মুখ খুলবে...
বল জালে জড়িয়ে যাওয়ার পর মনে হয়, আরে তো, এভাবেও তো গোল হয়!
জুন ১৪
নেদারল্যান্ডস দলটা অনেকটা তাদের দেশের ফিলিপস কোম্পানির মতো — একটা ক্রিটিকাল মিনিমাম কোয়ালিটি ফুটবল তারা খেলবেই। আহামরি একদমই খেলছে না, তবুও পাসিং ফুটবল চোখ জুড়িয়ে দেয়।
জাপানের থেকে ডাচদের চেহারা অনেক বড়, অতএব কিক অ্যান্ড রান ফুটবল খেলতে হবে তাদের। তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাও তারা করছে।
অ্যাজ আ রেজাল্ট, একটা পরিচ্ছন্ন (কিছুটা উদ্দেশ্যহীন) খেলা আমরা দেখতে পাচ্ছি।
একটা সময় নেদারল্যান্ডসকে ইউরোপের ব্রাসিল বলা হতো। ৭০ এর ব্রাসিল দলকে যদি বাদও দিই, ৮২-এর ব্রাসিল, বা ৯৪ এর ব্রাসিল সত্যিই খেলতে জানত। মাঠে শিল্পের তুবড়ি ছোটাতে পারত।
এখনকার ব্রাসিলকে লাতিন আমেরিকার নেদারল্যান্ডস বলা যাবে কিনা সন্দেহ।
আমি আর্খেন্তিনার ডাই হার্ড ফ্যান বলে কথাগুলো লিখছি না। খুগো বোনিতো আর্খেন্তিনার পক্ষেও এবার খেলা সম্ভব নয়। আর্খেন্তিনার ডিফেন্স লাইন বরাবরই নড়বড়ে, আর এবার ওতামেন্দিদের বয়স হয়েছে, অতএব কেলিয়েই দুর্গ রক্ষা করবে ওরাও। কার্ড দেখবে।
কিন্তু ব্রাসিলের ডিফেন্ডারদের মতো ক্ষমতায় না পোষালেই ক্যালাও, এই মানসিকতা ওদের ফরোয়ার্ড লাইনের নেই, মেসিদের এখনো অনেক স্কিলফুল প্লেয়ার আছে সামনের দিকে। তাও তো দিবালা দলে নেই!
বিশ্বকাপ কিন্তু এবার মজতে শুরু করেছে।
জুন, ১৫
১। ঠিক তিকিতাকা হলো কি?
২। খুব ফোকাসড, অর্গানাইজড লাগল না কিন্তু স্পেনকে।
৩। তোরেস (৭ নম্বর) — হঠাৎ এমন? নার্ভাস?
৪। ইয়ামাল...???#✪##!!!
জুন, ১৫
তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াল এই যে — আজ ফ্রান্স জাপ্টে ধরে রাখবে সেনেগালের প্লেয়ারদের, পা চালাবে ইচ্ছে মতো, ফাউল এবং ফ্রিকিক কিছুই বরাদ্দ নেই সেনেগালের জন্য, যেমন ফ্রান্সের বরাত থেকে ছেঁটে দেওয়া হয়েছে হলুদ কার্ড।
রেফারিদের এই একচোখোমি বিরক্তিকর!
জুন, ১৭
এবারের বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত প্রেসিং ফুটবলের সেরাতম নমুনা পেশ করছে নরওয়ে। রাত জাগা সার্থক। তাদের দ্বিতীয় গোল এটাই প্রমাণ করে।
ইরাক কিন্তু এই মারাত্মক প্রেসিং ফুটবলের সামনে মাথা নত করেনি!
২-১ চলছে।
এইরকম ফুটবল খেলা দেখার জন্য রাতের পর রাত জাগা যায়।
জুন, ১৭
কী ভাবছেন, এল এম টেনের পায়ের জাদু? আরে ছোঃ, আগেকার বিশ্বকাপগুলোয় আলজিরিয়ার চাইতে অনেক কচি মুরগী পড়েছে আর্খেন্তিনার সামনে, কই, তখন তো হয়নি।
এবার হতেই হতো। সেই যে সেই অরূপ তোমার বাণী শুনলেন বক্ষলগ্ন হয়ে, সেই থেকে মাথায় গেঁথে গিয়েছিল, এই পবিত্র স্পর্শ, যার মধ্যে কিনা মাননীয়ার পরোক্ষ বিভূতি আছে, মাথায় করে, আর্খেন্তিনা নয়, শুধু মাত্র কলকাতার জন্য জীবনে একটি বার অন্তত...
তাই না এই ফুটবল জীবনের শেষ বেলায় এসে গোলের মধ্যে চারখানা গোলা রাখা — একটা জিদানের ব্যাটা ফিস্ট করে বার দিল, নইলে ৬০ মিনিটের মধ্যেই হয়ে যেত প্রতিশ্রুতি রাখা। বুকের মধ্যে সলতে করে রাখা আকুলিবিকুলি সাইজ হয়ে যেত।
জিও মেসি বলার আগে তাই আর একবার ভেবে নিন — ঠিক বলছেন কিনা।
জুন, ১৭
বিশ্বকাপের সব খেলা দেখে উঠতে পারছি না। কাল দক্ষিণ কোরিয়া - মেক্সিকো ম্যাচটা মিস হবে।
এনিওয়ে, যা খেলা দেখলাম, তাতে করে সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের খেলা বড়ো মনে ধরেছে। আর জার্মানরা দ্বিতীয় ম্যাচেই নির্ঘাত প্রমাণ করে দেবে ওরা কতটা ধারাবাহিক।
ইংল্যান্ডের বেঞ্চ স্ট্রেন্থ অস্বাভাবিক ভাল। বেলিংহ্যাম অসাধারণ। র্যাশফোর্ড পরে নেমে গোল পেল। সাকা প্রথম থেকে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না।
সুইজারল্যান্ড দলে বিরাট মাপের স্টার খেলোয়াড় নেই, কিন্তু বাবরের আমলের ৪-৩-৩ ছকে কী দুর্দান্ত খেলছে দলটা!
স্পেনের ইয়ামালের চোট আছে। দুঃখের। একে আর জার্মানির মুশিয়ালাকে চোখ ভরে দেখতে চেয়েছিলাম বেলিংহ্যামের সঙ্গে।
আর হ্যাঁ, এমবাপের অফ ডে বলে কিছু হয় না।
আর আমার সাধের আর্খেন্তিনা? সোমবারের অস্ট্রিয়া ম্যাচটা দেখি আগে।
জাপান - সুইডেন, নেদারল্যান্ডস - সুইডেন ম্যাচ দুটোর দিকে চোখ থাকবে।
আজ বেকার এই গ্রুপের খেলা দেখতে গেলাম। আসলে সবাই প্রথম ম্যাচে ড্র করেছিল... মনে হয়েছিল, ম্যাচগুলো মারকাটারি হবে, কিন্তু সুইজারল্যান্ড বসনিয়াকে নিয়ে পুতুল খেলল, আর কানাডা গোটা ম্যাচটাই খেলছে কাতারের বক্সে।
কালকের সকালের ম্যাচটা মিস হবে ভেবেই খারাপ লাগছে। কিন্তু এবার আর শরীর দিচ্ছে না।
জুন, ১৯
জাপানের সঙ্গে ড্র করে ধাঁতানি খেয়েছিল ডাচরা। আজ শুরু থেকেই উইং দিয়ে ঢোকার পাশাপাশি ডায়াগোনাল পেন্যিট্রেশন শুরু হয়েছিল। ফলে প্রথমেই দু-দুটো গোল।
কিন্তু স্যুইডরা জাগল। আর আমরা দেখছি অতুলনীয় প্রেসিং ফুটবল!
এসব ম্যাচের জন্যই বিশ্বকাপ।
জুন, ২০
সকার বিশ্বকাপ ২০২৬ এবং একটা টিয়াপাখি
অনেককটা খেলা, ২০২৬ এর সকার বিশ্বকাপের কথা লিখছি, হয়ে গেল। কিছু ম্যাচ দেখতে পেলাম না, যার জন্য আফসোস রয়ে যাবে।
তো, কারা কারা যাচ্ছে নক আউটে?
মেখিকো, আমেরিকা, জার্মানি — এরা চলে গেছে।
সম্ভাব্য কারা দেখা যাক —
প্রথম গ্রুপ — দক্ষিণ কোরিয়া কি দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যাবে? আমার তা মনে হয় না, ড্র বা জিতলে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছে। চেকিয়াদের জন্য খারাপ লাগছে।
দ্বিতীয় গ্রুপ — কানাডা সুইজারল্যান্ড ম্যাচটা দারুণ জমবে। আর ড্র হলে দুই দলই যাচ্ছে, এমনকি যদি ১-০ জাতীয় ফল হয়, তাহলে যারা জিতবে তারা তো যাচ্ছেই, পরাজিত দলও যাবে বলে মনে হয়, কারণ বসনিয়া - কাতার ম্যাচে চার গোলের ব্যবধান হবে না।
তৃতীয় গ্রুপ — ব্রাসিলের খেলা বাকি স্কটদের সঙ্গে, মুররা খেলবে হাইতির সঙ্গে। এই গ্রুপ থেকে প্রথম নিশ্চিত দেশ হল মরক্কো। ব্রাসিলও, আশা যায়, শেষমেশ পেরে যাবে। লক্ষ্যণীয়, ব্রাসিল - স্কটল্যান্ড ম্যাচ ড্র হলে, বা অল্প ব্যবধানে স্কটরা হারলে ওরাও কিন্তু তৃতীয় দল হিসেবে যেতে পারে কারণ ওদের গোল ব্যবধান — শূন্য।
কথাগুলো লিখলাম হাইতি হারবে, অথবা সে ম্যাচ গোললেস ড্র হবে, ধরে নিয়ে।
চতুর্থ গ্রুপ — আমেরিকা চলে গেছে। অস্ট্রেলিয়া -পারাগুয়াই ম্যাচ যদি ড্র হয়, দুটো দলই পরের পর্বে যাবে ৪ পয়েন্ট পেয়ে। ম্যাচের রেজাল্ট হলে গোল পার্থক্য ক্রুসিয়াল ভূমিকা নেবে।
খারাপ লাগছে তুর্কদের জন্য।
পঞ্চম গ্রুপ — ইকুয়াদোর তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র করে মুশকিলে পড়ে গেল। তারা গোল পার্থক্যে আইভরি কোস্টের থেকে এক গোলে পিছিয়ে। ক্যুরাকাওকে আইভরি কোস্ট হারাবে বলেই আমার ধারণা।
তবে ইকুয়াদোর যদি জার্মানির সঙ্গেও ড্র করতে পারে, তৃতীয় দল হিসেবে তারাও যেতে পারে।
ষষ্ঠ গ্রুপ — নেদারল্যান্ডস... হ্যাঁ। তারা প্রায় সবুজ বাতি জ্বেলে ফেলেছে। তিউনিশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে না জেতার কারণ নেই ডাচদের।
সুইডেন - জাপান সম্ভবত এই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। তবে জাপান হারলেও নক আউটে যাবে।
একই কথা স্যুইডদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সপ্তম গ্রুপ — এই গ্রুপে এখনো ধোঁয়া কাটেনি। সব দল এক পয়েন্ট পেয়ে শূন্য গোল ফারাকে দাঁড়িয়ে আছে। এবং এটাই এই মূহুর্তে গ্রুপ অফ ডেথ।
আমার ব্যক্তিগত পছন্দ — বেলজিয়াম আর ইজিপ্ট।
অষ্টম গ্রুপ — এই গ্রুপের অবস্থাও একই রকম। সব দল এক পয়েন্ট পেয়ে শূন্য গোল ফারাকে দাঁড়িয়ে আছে।
আমার ব্যক্তিগত পছন্দ — স্পেন আর উরুগুয়াই।
তবে সৌদি আরব যদি কেপ ভার্দেকে হারাতে পারে, তাহলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারাও তিন নম্বর দল হিসেবে পরের পর্বে যেতে পারে।
নবম গ্রুপ — নরওয়ে - ফ্রান্স — ধুন্ধুমার ম্যাচ। এই দুই দল যাচ্ছে, এমনই ভেবে নিচ্ছি। সেনেগাল কি ইরাককে হারাতে পারবে না? পারলে তারাও পরের পর্বে যেতে পারে।
দশম গ্রুপ — সোমবার রাত দশটায় আর্খেন্তিনা -অস্ট্রিয়া খেলা। অত্যন্ত উপভোগ্য হবে এই ম্যাচ। এবং এই দুই দলই পরের পর্বে যাচ্ছে।
এই গ্রুপ থেকে কোনো তৃতীয় দল কি যেতে পারবে? আমার মনে হয় না।
একাদশ গ্রুপ — কলম্বিয়া -পর্তুগাল। কলম্বিয়া যদি জিতে যায়... সি আর সেভেনকে বাড়ির পথ ধরতে হবে। কারণ কঙ্গো হারিয়ে দিতে পারে উজবেকিস্তানকে। সেক্ষেত্রে তারা যাবে মূল পর্বে। আর পর্তুগালও যদি উজবেকিস্তানকে হারায়, তাহলে ওই, তৃতীয় দল হিসেবে গেলেও যেতে পারে পরের রাউন্ডে।
দ্বাদশ গ্রুপ — ইংল্যান্ড নিশ্চিত যাচ্ছে পরের পর্বে। পানামা একপ্রকার নিশ্চিত ফিরতিপথ ধরবে। বাকীরা?
তাহলে কী দাঁড়াল —
মেখিকো, আমেরিকা, জার্মানি।
দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, ব্রাসিল, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, পারাগুয়াই, আইভরি কোস্ট, নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, বেলজিয়াম, ইজিপ্ট, স্পেন, উরুগুয়াই, নরওয়ে, ফ্রান্স, আর্খেন্তিনা, অস্ট্রিয়া, কলম্বিয়া, কঙ্গো, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ঘানা, ক্রোয়েশিয়া।
আরও তিনটে দেশের প্রভিসন খোলা রইল কিন্তু।
জুন, ২১
দুটো নোটঃ
১। একটা ছেলের কারণে নির্বিষ পাসিং ফুটবল, ভেনম্যস তিকিতাকা হয়ে গেল!
ইয়ামাল... মন ভরে গেল!
২। পোয়েটিক জাষ্টিস বলে একটা কথা আছে, প্লাস, ফ্রিকিকের ট্র্যাজেক্টরিতে সে অফসাইডে থাকা খেলোয়াড় ছিল না। অথচ তার জন্যই...
একটা ক্রিয়েটিভ কাজ করে দেখাল ইরান, হয়তো ভবিষ্যতে এটা অনুসৃত হবে...
কিন্তু গোলটা বাতিল হয়ে গেল!
জুন, ২২
অস্ট্রিয়ার ৫ নম্বর পিছন থেকে ঠ্যাং বাড়ালো। পরিষ্কার পেনাল্টি।
কিন্তু হলে কী হবে...
অরুপীয় মহিমা কি এত সহজে যাওয়ার!
পেনাল্টি পুরো প্লান্টিক হয়ে গেল।
জুন, ২২
অসাধারণ ডিফেন্স করে গেল ঘানা।
এই বিশ্বকাপে সব চেয়ে ডায়রেক্ট ফুটবল খেলছিল ইংল্যান্ড। ছক ইত্যাদি পাশে সরিয়ে রেখে মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমণের বন্যা ছুটিয়ে দাও। কিন্তু ঘানা জোনাল মার্কিং করে পায়ের জঙ্গল বানিয়ে রেখেছে।
এই অবস্থায় দ্বিতীয়ার্ধে হয়তো সাকা আর র্যাশফোর্ডকে দেখা যাবে — মাঝখান দিয়ে আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি উইং দিয়ে আক্রমণ তৈরী করার জন্য।
আমার ধারণায়, দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশী ভালো ফুটবল অপেক্ষা করছে।
জুন, ২৪
আজ ইকুয়াদোরকে স্যাঁক দিয়ে লেভেল করে দেবে জার্মানি।
সানের গোলটা অবিকল কুরাকাও'র বিপক্ষে মেচার প্রথম গোল জঁরের।
(পরে লিখতে বাধ্য হয়েছি)
অবিশ্বাস্য খেলেছে ইকুয়াদোর।
শুধু জেতেনি, জার্মানির বেশ কয়েকটা ফাঁক দেখিয়ে দিয়ে গেছে।
গ্রুপ পর্বে বেস্ট গেমগুলোর একটা।
পুরো কথা গিলিয়ে দিলো!
জুন, ২৬
বিশ্বকাপের গ্রুপ-পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার মুখে। মন খারাপ লাগতে শুরু করেছে। হয় না — অষ্টমীর দিন সন্ধ্যা থেকেই মনটা বিষণ্ণ হতে থাকে।
টেবলে যে সব দেশের পাশে নীল দাগ দেখছেন, তারা পরের পর্বে, অর্থাৎ, নক আউট, যার নাম গ্রুপ অফ থার্টি টু, যাওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে আছে। তাদের কেউ কেউ, মানে, গ্রুপে যেসব দেশ প্রথম আর দ্বিতীয় স্থানে আছে, তারা চলে গেছে। তৃতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করা আটটি দেশ যাবে। বাকী চারটি দেশ, গ্রুপের চতূর্থ দেশগুলোর মতোই বাড়ি ফেরার রাস্তা ধরবে।
যেমন এই মূহুর্তে, স্কটল্যান্ডের পাশে নীল দাগ — তারা খেলেছে ৩ টি ম্যাচ, জিতেছে ১ টিতে, হেরেছে ২ টিতে, গোল খেয়েছে ৪ টি, গোল দিয়েছে ১ টি। পয়েন্ট ৩, গোলপার্থক্যঃ -৩ ।
আবার দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থাও একই। তারাও নীল দাগের নীচে আছে। তারা খেলেছে ৩ টি ম্যাচ, জিতেছে ১ টিতে, হেরেছে ২ টিতে, গোল খেয়েছে ৩টি, গোল দিয়েছে ২টি। পয়েন্ট ৩, গোলপার্থক্যঃ -১।
এই বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কাবোভার্দে, আজ তাদের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে। তারা আপাতত, ড্র করেছে আগের ২ টি ম্যাচেই, গোল খেয়েছে ২টি, গোল দিয়েছে ২টি। পয়েন্ট ২, গোলপার্থক্যঃ ০।
বলার কথা, আজ যদি তারা সৌদি আরবকে হারিয়ে দেয়, ৫ পয়েন্ট পাওয়া তৃতীয় দল হিসেবে তারা সবার আগে চলে আসবে। আরা ড্র করলে মুশকিল, কেননা সেনেগাল যদি ইরাককে ৩-০ হারিয়ে দেয়, বা তিন বা তার বেশী গোলের ফারাক রেখে জেতে, তাহলে কিন্তু তারা কাবো-ভার্দের পাশাপাশি চলে আসবে।
কথাগুলো লিখে রাখলাম এই কারণে, ৪ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয়স্থানে থাকা বসনিয়া, ইকুয়াদোর, পারাগুয়াই — এরা কিন্তু আগে নক-আউটে যাবে।
খারাপ লাগছে, তুর্কীর জন্য। তারা গ্রুপে চতূর্থ স্থানে আছে, কিন্তু তারা খেলেছে ৩ টি ম্যাচ, জিতেছে ১ টিতে, হেরেছে ২ টিতে, গোল খেয়েছে ৫টি, গোল দিয়েছে ৩টি। পয়েন্ট ৩, গোলপার্থক্যঃ -২। অর্থাৎ, স্কটল্যান্ডের থেকে ভালো অবস্থায় থেকেও এরা কোয়ালিফাই করতে পারবে না, কারণ এরা এদের গ্রুপে ৪ নম্বর জায়গায় আছে।
গ্রুপ জি নিয়ে আমার বেশ সংশয় আছে। বেলজিয়াম আজ যদি ড্র করে, আর ইরান যদি জিতে যায়, তাহলে বেলজিয়াম ৩ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকবে, তখন নেট গোল রেট নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে কারণ তখন বেলজিয়াম স্কটল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার পাশে চলে আসবে।
এখনো টানটান খেলা দেখব আশা রাখি, ফ্রান্স-নরওয়ে, কলম্বিয়া-পর্তুগাল। ভালো খেলা হতে পারে, স্পেন-উরুগুয়াই-ও।
মেখিকোর সঙ্গে একমাত্র আর্খেন্তিনা এবং ইংল্যান্ড-ই ৯ পয়েন্ট পেয়ে নক-আউট পর্বে যাবে বলেই মনে হয়।
এত লেখার মাঝখানে মনে পড়ছে গতকাল (বা আজ) রাতে কথা, কে ভেবেছিল, ইকুয়াদোর ওই খেলা খেলবে, দু মিনিটের মধ্যে গোল খেয়ে যাওয়ার পর। আমি অন্তত ভাবিনি, আর তাই মুগ্ধ হয়ে খেলাটা দেখে গিয়েছি।
গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হয়ে গেলে লিখে দেব, আমি কাদের আগে থেকে অনুমান করেছিলাম নক-আউটে যাবে বলে, এবং কারা অ্যাকচুয়ালি গেল। আমার অনুমানটা এখনই আর একবার লিখে দেওয়া যায় –
মেখিকো, আমেরিকা, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, ব্রাসিল, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, পারাগুয়াই, আইভরি কোস্ট, নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, বেলজিয়াম, ইজিপ্ট, স্পেন, উরুগুয়াই, নরওয়ে, ফ্রান্স, আর্খেন্তিনা, অস্ট্রিয়া, কলম্বিয়া, কঙ্গো, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ঘানা, ক্রোয়েশিয়া।
এই ছিল আমার আন্দাজ।
খেলার কথা ছেড়ে এবার একটু অন্য কথা লিখি।
বিশ্বকাপ, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ, স্মৃতি-মেদুরতা — এসব নিয়ে ফেসবুকে অনেক লেখা আসছে, পড়তে পাই। স্মৃতি-কাতরতা আমার সঙ্গে চলে, সুতরাং তেমন লেখা যে আমায় ছোঁবে এতে আর আশ্চর্য কী! যেটা উপরি পাওনা, এবার মেয়েদের কলম থেকে আসছে বেশ কিছু লেখা, এই বিশ্বকাপ ফুটবল প্রসঙ্গেই।
অভিভূত আমি পড়তে পড়তে একটা ফারাক কিন্তু টের পাই — আমরা ছেলেরা যখন খেলা দেখি, তখন দেখোয়াড় হিসেবে খেলা আর খেলোয়াড়কে দেখি, সেসবের তর্কে, আলোচনায় মশগুল হয়ে উঠি। এটা মেয়েদের খেলা প্রসঙ্গেও প্রযোজ্য। এই যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভারদৎ কী লিমিটেড ওভারের খেলায় স্মৃতি মান্ধানাকে ছাড়িয়ে যাবে, কিংবা অস্ট্রেলিয়ান মেয়েরা ক্রিকেট মাঠে এগারোজন মিলে যে কোনো বিপক্ষের বাইশজনকে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই সব শঙ্কা, আফসোস — এসবের মধ্যে কোন্ খেলোয়াড় সুন্দরী, এটা ঠিক ভেবে উঠতে পারি না আমরা। কিন্তু মেয়েরা দেখছি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রবার্তো বাজ্জোকে মন দিয়েছেন, কেউ দিয়েছেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেনমার্কের তোমাসনকে। ব্রাসিলের কাকা ম্যাচ পাননি, কিন্তু অনেক বাঙালী কন্যের মন পেয়েছেন, পড়তে পাই। এরকম গরম বাজার পেয়েছেন স্পেনের রাউল, পরবর্তীতে ফাব্রেগাস (সব ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ পেতেন না, মূলত পরে নামতেন, আর তখনই মহিলারা দর্শককূল টিভিত প্ররদার সামনে চোখ বড় করে বসতেন), জার্মানির ক্লোজে এবং মেসুট ওজিল, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন (তুলনায় কম), এবং সেখানে কোনো কালো খেলোয়াড় নেই, মুলাটোরাই নেই তো নেগ্রিটো রেস, আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মেয়েদের ক্রাশ হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে, মেসি নন, এবং দাড়ি রাখার পর থেকে তো একেবারেই নন...
এটা আমি মূলতঃ জেন এক্স, মিলেনিয়াল, এবং আর্লি জেন জি প্রসঙ্গে লিখলাম। জেন জি’র শেষদিক, কিংবা জেন আলফা — এরা তো বাংলায় কিছু লেখে না!
অনিন্দ্য ঘোষ ©
জুন, ২৬
লেখাটা এখানেও আছে। পড়বার জন্য। পাবলিক ডোমেইনেই আছে। লিঙ্কঃ
ফটো কার্টসিঃ গুগল ইমেজেস ।
ঋণঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলি। এখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা ও সেইসব গানের অংশভুক সকলকে।
No comments:
Post a Comment