পার্সোনাল ডায়েরিঃ এন্ট্রি, ফেব্রুয়ারি ছয়, দু হাজার ছাব্বিশ
ঈশ্বর হয়ে যেও না, বুঝলে?
বোড়াল শ্মশানে, তার আদি বা অন্ত জানি না আমি, ম্যাক্স টু ম্যাক্স দেখেছি যা, সেটা হলো, মানুষ হিসেবে এক নশ্বর জীবনে দাঁড়ি পড়লে, যদি হিন্দুর ঘরে হয় তা, তবে তার সেই অন্ত বা অন্ত্যেষ্টি এর’রম জায়গায় হয়; আজ গিয়েছিলাম বেশ অনেক দিন পর। শখ করে যাই নি, যেতে হয়েছিল। আমাদের মধ্যে, পোস্ট-ফর্টি ধরে চললে, স্মৃতি এই মুহূর্তে যেমন বলছে — পাগলাঘণ্টি বাজিয়েছিল দীপঙ্কর, সে অবশ্য বছর খানেক হয়ে হলো, আর আজ বিবেক। বলতে গেলে, একপ্রকার আচমকাই একা একা মরে গেলো, অবশ্য মরে আর কবে কে দোকলা গেছে!
সে যাক, ওর বাড়ী হয়ে শ্মশানে পৌঁছে দেখলাম শ্মশানটা বেশ পাল্টেছে, কেননা একটা নতুন ক্রিমেট্যর বসেছে। একদিকে দুটো, আর একদিকে আর একজোড়া। প্রথম দুটোকে প্রথম থেকেই দেখে আসছি, আমাদের পরিবারের অনেকে সেখানের ডানদিকেরটায় গেছে, আর যেদিকে একটা একা চুল্লী ছিল, যার এখন একটা সঙ্গী জুটেছে আর কি, সেটাই নতুন, আর সে জোড়া চুল্লীর কোলাপসিবল গেট বন্ধ ছিল। বডি কম এসেছে আজ, বিবেক তো ভাগ্যবানই বেশ এদিক থেকে যে, গিয়েই চুল্লী পেয়ে গেলো!
অবশ্য নসীবের দিক থেকে কে আর কবে তোমায় মারতে পারল! র্যামি, ফিশ, এমনকি ব্রীজের কার্ড-লাক থেকে দেখে আসছি; - বাদুড়-চাটা কপাল হলে সে ট্রিকে আমার হাতে টেন-টপ তেরো কার্ড, আর সেই মাগ্যি-গন্ডার দানেও তোমার হাতে বারোটি পয়েন্ট, মায়, একটা স্টপারও আছে! তোমার রাতে অটো-ভাগ্য? সে তো আমার বারবার দেখা, তোমার জন্য ভিড়ের ঠাপে বাপের নাম খগেন হয়ে যাওয়া ট্রেন, কোন্সা ম্যাজিকে অক্সিজেন-অফুরান-হালকা আসত, আমি জানি না আজও।
আচ্ছা চলো, এ কথাও এখন নাহয় থাক, পরে-পশ্চাতে লেখা যাবে 'খন। আজ বোড়াল শ্মশানের নতুন চুল্লী জোড়ার বন্ধ কোলাপসিবল গেটের এপার থেকে চুল্লীটাকে দেখছিলাম, মালটা বন্ধ হলে হবে কী, জোড়ার অন্যটাকে পেয়ে এখন তার ঘ্যামই আলাদা। যখন একা ছিল, তার সেই ভালনার্যেবল অবস্থায় তোমাকে শেষ বারের মতো শুইয়ে দিয়ে, অবশ্য সেদিনই কিছু আগে তোমাকে কয়েকবার যা শুইয়েছিলাম, তার আগে তুমি সে সুযোগ দাও নি, আমিও চাই নি তা, চলে এসেছিলাম জীবনে, বেঁচে থাকতে। তো দেখতে দেখতে তোমাকে ভাবার চেষ্টা করছিলাম। দ্য ফানি থিং ইজ — আই ওয়জ এবল টু সী অল ইয়োর ওয়েজ ক্লিয়ারলি, ইনক্লুডিং ইয়োর ফ্রেম, ইয়োর হেয়ার কাট, দ্য লিপোমা অন ইয়োর রাইট কলার বোন, দ্য ওল্ড ওয়ান অন দ্য রাইট আপার আর্ম, ইভন, রাইট রিস্টের ধারের কচিটাকেও মনে পড়ছিল স্পষ্ট; তোমার বাম দিক তো পরিষ্কার, আফটার অল তুমি, হেঃ হেঃ, তুমি তো সিপি(আই)এম ছিলে; আর পশ্চিমবঙ্গে — টাইগার, বিধি সব বানচোত বাম হতে পারে, হয়েওছে, কিন্তু আমি বাল কম্যুনিস্ট-কূলে প্রহ্লাদ, মানে, রিফরমিস্ট আর কি — মনে করি, মার্ক্সের নিজেরও প্রচুর ফ্যালাসি ছিল, ধারণা মহৎতম, কিন্তু অনেক কিছুই অ্যান্টিসিপেট তিনি করে উঠতে পারেন নি, বাধ্যতঃ বাণীর মধ্যে স্পেকুলেশনের ইন্টারপোলেশন হয়েছে, আর এঙ্গেলস তো... যাক গে যাক; এবং ইমপ্লীমেন্টেশন করতে গিয়ে গোটা গ্লোব প্যান্টুলে মুতেছে।
থাক সে তত্ত্বের কচকচানি, আই ক্যুড ইভন রিকল দ্য বার্থমার্ক অন ইয়োর রাইট থাই, এভরি মার্ক, এভরি হ্যাবিট (তোমার নস্যি, তোমার নাকডাকা, স্যানিটারিওয়্যার সব থাকলেও ভিতরের উঠোনে রোদ মেখে শীতকালীন চান করা... আর কত লিখি বলো দেখি) স্টুড ক্লিয়ার এনাফ বিফোর মী, বাট আই ক্যুডন্ট সী ইয়োর ফেস উইথ মাই ইনার আইজ। দ্যে ব্রট মী এভরিথিং ব্যাক ইনট্যাক্ট, বাট দ্য থিং দ্যাট শ্যুড হ্যাভ বিন দ্য ক্লোজেস্ট স্লিপড অ্যাওয়ে ইনটু ডার্কনেস — সত্যিই মাইরি, কিছুতেই তোমার মুখ মনে পড়ল না! কত গাইছিলাম হেলো ডার্কনেস, মাই ওল্ড ফ্রেন্ড... এই ট্র্যাজেক্টরিতে দাঁড়ালে আমার তো কাঠ কুড়োতে কুড়োতে বেলা যায় মাগো, মা। কেউ কিছু না দিলে ভিখিরি আমি কী আর করি, বলো।
...না, না ভুল লিখছি, মনে পড়ছিল সেগুলোই, যেগুলোর ফটো আছে। কিন্তু, বাবা, এমনটা তো ঈশ্বরের ক্ষেত্রে হয় জানি — যা যা ফটো দেখা গেছে, চোখ মুদলে ঠিক তাই তাই-ই দেখা যাবে। অথচ তোমার সঙ্গে সাতচল্লিশ মাইনাস দুই — পঁয়তাল্লিশ বছর তো কাটিয়েছি! চোখের আলোয় অতো কিছু দেখে এলাম, আর অন্তরে আজ দেখতে গিয়ে লিটার্যালি হাতে হ্যারিকেন! যেখানে — জানুয়ারি, ২০২১ থেকে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ — সবে পাঁচ বছর কাটল।
তাই বলছিলাম আর কি, নশ্বর হয়ে জন্মেছ, নশ্বর হয়ে মরেছ, ঈশ্বর-ফিশ্বর হয়ে-টয়ে যেও না। সে হেব্বি লাফড়া হবে, কারণকি, তুমি জন্মান্তর মানতে, আমিও শালা মানি। কিন্তু তুমি যদি ফট করে ঈশ্বরে সেঁধিয়ে যাও, যদি বেমক্কা-বেমদিনা ডিভাইন অ্যাম্বিটে লটকে পড়ো, পরের জন্মে আমায় সীড দেবে কে? হ্যাঁ, আবারও একবার আমি স্বার্থপরের মতো তোমার পস্টারিটি, অর্থাৎ আমাকে নিয়েই ভাবছি;- আমি ফের একটা অপরিচিত বীজ চাই না, বাবা। অ্যাডজাস্ট করতে নাও পারে, বাওয়ালির প্রচুর পসিবিলিটি আছে সেখানে।
অনিন্দ্য ঘোষ ©
বিবেকের একটা ছবি দেওয়াই যেত এখানে। আমি বেঁচে থাকতে একবার মড়ার খাটিয়ায় শুয়ে চোখে তুলসীপাতা, নাকে তুলো, বুক অবধি সাদা মার্কিন থান আর হরিনাম জ্যাকেট দিয়ে দেখে নিয়েছি যখন — মরলে আমায় কেমনতরটা দেখতে লাগবে... আর বিবেক তো সত্যি সত্যিই চলে গেলো, সেই যাকে বলে, কোনও কথা না বলে।
অনেকেই বলেন আমার নাকি অনুভূতি বলতে কিছু নেই। তা জন্মের আগে কিংবা চেতনা হওয়ার কালে কেউ ট্রাঙ্কেট করে দিলে আমার আর কী-ই বা আর করার আছে।
হ্যাঁ, অনুভূতি ছাড়া যা যা, আমি তার অনেকটাই পারি, যা অন্যে পারে না। কিন্তু তাই বলে এতটাও পারি না।
অনিন্দ্য ঘোষ ©
পার্সোনাল ডায়েরিঃ এন্ট্রি, ফেব্রুয়ারি সাত, দু হাজার ছাব্বিশ
সংখ্যা কত কিছু মানে বহে আনে, যার কিছু এক্সপ্লীসিট, আর কিছু, ওই — কথা কিছু কিছু বুঝে নিতে হয়...
পুরানো অক্সিমিটারটা খারাপ হয়ে যাওয়ার পর তক্ষুণি তক্ষুণি কিনে ফেলতে হবে — এমনটা, সত্যি কথা বলতে কী, ভাবি নি। মা'র হার্ট-লাঙ বরাবর ভালো, বরং বছরভর কাঁটায় কাঁটায় থাকি, তাহলে কী কিডনি, মানে, রেনাল ফেলিওরের মধ্যে দিয়ে হবে মা'র যাওয়াটা। এগুলো ভাবি, ভাবতেই হয়, কারণ, মা'র শরীরে ক্যানসারের জন্মদিন মানালে এবার দশটা মোমবাতি জ্বালাতে হবে।
ব্লাড প্রেশার মাপার মেশিন চলছিল ঠিকই, তবে ওটার আর্ম কাফের ভেলক্রো খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বহুল ব্যবহারে যা হয় আর কি... নতুন একটা মেশিন অর্ডার করে দেওয়ার সময় ফুচকার ফাউয়ের মতো একটা অক্সিমিটারও অর্ডার করা গিয়েছিল। রাতের দিকে মাকে ওয়ালেট খাওয়ানোর সময় সেটা নিয়ে মা'র ঘরে গেলে রঙীন ঝিলিমিলির মধ্যেই অক্সিজেন স্যাচুরেশন - ৯৯, হার্ট রেট - ৮৫। পিকচার পার্ফেক্টের মা-মাফিক ডেমন্সট্রেশন যাকে বলে। কিন্তু গোলটা বাঁধল হপ্তাখানেক আগে, বেলার দিকে, দেখি তো বাবা অক্সিজেন, তুমি কতটা ফিদেল — মা'র রক্ত র্যেইড করতে গিয়ে। দেখলাম অক্সিজেন স্যাচুরেশন — ৫৮। অর্থাৎ, শ্বাসবায়ু ফিডেল করে যাচ্ছে, আমরা বুঝি নি, এই যা।
সমস্যার মুখে দাঁড়িয়ে ফিজেট করতে আমায় বড় একটা কেউ দেখে নি বলেই ধারণা যায় আমার, ওয়র্স কিছুকে নিশ্চিত ধরে নিয়ে আমি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নামি। কিন্তু এখানে তো ড্যামেজের ধড়-মুন্ডু জানি না, দু - তিন ধরে দেখে বুঝলাম মা'র অক্সিজেন বেলার দিকে দল বেঁধে হাওয়া খেতে যায়, তখন অক্সিমিটার মা'র শরীরে অক্সিজেন খুঁজতে থাকে, খুঁজে পেতে ৬০ - ৭২ এর মধ্যে দাঁড়ায়। রাতের দিকে সব পাখিই নীড়ে ফিরে আসে। তখন অক্সিমিটার স্মার্ট, এক লহমায় সে ৯৯ তে দাঁড়িয়ে সে দেবানন্দ'র একটা জেসচার ধরে, আর আমার অনিবার্য মনে পড়ে যায়ঃ শালা, গ্রেগরি পেকের কার্টুন।
বেচারা সোমত্থ হার্ট ফ্রম পিলার টু পোস্ট বিট করে বেলার দিকে, তখন সে সেকেন্ডে কখনও ১৮২, তো কখনও ৩৮। আর রাতের দিকে সেই হারকিউলিয়ান অসসিলেশনের ইনডাকশনে ৯৮ - ১০২ সে ধোঁকে। রোজ।
মা'র ব্লাড প্রেশার সেই যে গোঁত্তা খেয়ে ৮৫/৪৮ তে গিয়ে সেঁধিয়ে গেলো, কলার ধরে হিড়হিড় করে টানলেও, বেচারা ইলাস্টিক তো আর নয়, তাই বড় জোর ১০৫/৬৫।
আর মা বরাভয় দিয়েই চলেছে যে, তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে-ছাড়তে অসুবিধে হচ্ছে না কোনও। আশ্বাস দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়ে। কথা বলতে বলতে ভুলে যায় কী কথা সে আমাদের বলবে।
আজ ডাক্তার সব কিছু মন দিয়ে দেখলেন। তারপর সব প্রিন্ট আউটকে নস্যাৎ করে দিয়ে বললেনঃ ধ্যেত। পেশেন্ট যখন বলছে ব্রিদিং ট্রাবল হচ্ছে না, নিকুচি করেছে এইসব ডিজিটাল মেশিনের।
ডিজিটাল মেশিন। ডিজিটস। ১ থেকে ১০০-ই ধরুন না — কত বিন্যাস না সেটুকুর মধ্যেই!
বিশ্বাস করানো শক্ত যে, আমি, এদের মধ্যে ১, ৫, ৬, ৯ — এই চারটেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার দেখি। এরা চলেই আসে আমার দৈনন্দিনে, বাধা দেওয়ার কেউ-ই নেই, ভালোবেসেই বোধহয় আসে। রাতের দিকে ডিজিটাল ঘড়ির দিকে তাকালে, দশবারের মধ্যে সাতবার ৯:১৬। বুঝে যাই, আমাকে রোজ জন্মাতে হয়। শিশুমঙ্গল হাসপাতালের গোলাপী কার্ডে ফিকে নীল, যদিও টার্কোয়েজ নয় সেটা, ফাউন্টেন পেনের লিখনানুযায়ী, বহু, বহু, বহুদিন আগে, তখনও এ পৃথিবী ডাইনোসরের গায়ের গন্ধে ম ম করছে — কোনও এক রাত ৯ টা ১৬ মিনিটে নকল আলো দেখেছিলাম আমি। অর্থাৎ প্রথমেই পিটুলিগোলা, সুর্যের সঙ্গে জন্ম থেকেই আমার ভাব-ভালোভাসা নেই। প্রশ্নটা এটাও দাঁড়াতে পারে যে, কার সঙ্গে আছে! ল্যাক্টোস-ডায়েরিয়ার প্রথম হাম্প হিসেবে তখনই লিখিত হয়ে দিয়েছিল? জানি না, শুনে তো ছি যে, এসে লটকে পড়ার দিনকয়েক পর ভাগ্যদেবী এসে ললাটে এসে মোক্ষম মোক্ষম ছেঁকা দিয়ে যান। সে তিনি লিখুন বা না-ই লিখুন, সন্ধ্যের সামান্য বয়স হওয়ার পর ঘড়ি দেখতে চাইলেই ৯:১৬ — এর মানেটা অবধারিত এই-ই দাঁড়ায় যে, গতকাল অবধি যা কিছু লিখেছি, পড়েছি — তার সবটাই আগের কোনও জন্মের। আমি ওই জন্যই লিখি আর না। হর রোজ নতুন করে শুরু করতে ভালো লাগে! পড়িও না বিশেষ। সঙ্গে যে থাকবে না, সে তো বুঝতেই পারি। রোজই।
আর একটা সংখ্যা আছে, যাকে নিয়মিত দেখি আমি, আমার আধার কার্ড থেকে শুরু করে কোথায় সে নেই! দিনে যদি পাঁচটা ওটিপি আসে পাঁচটা আলাদা জগৎ থেকে, তবে তার তিনটেতে থাকে সে। এক প্যান কার্ডটাই যা ব্যতিক্রম, আর হয়তঃ বা সেই কারণেই ঠিকঠাক প্যানিং করতে পারলাম না যাপনকে, উদযাপন করার ঢের আগে থেকে পানিং চলছে সেখানে। বলা যেতে পারে, আমার জিন্স বা চিনোজের, এমনকি বিরল ট্রাউজারের রাইট সাইডের হিপপকেটে একটা ক্যালাইডোস্কোপই ঘোরে। সুবিধেজনক প্যাটার্ন পেলেও খরচা করে ফেলি; গোমড়া মুখ করে বলতে গেলে, দেশের ইকোনমিতে কন্ট্রিবিউট করি। এনিওয়ে, সংখ্যাটা হলো ৫৬।
আমি অনেক ভেবেছি যে, ৯:১৬ যদি আমার জন্মের কাল দেখায়, ৫৬ তাহলে কী? অঙ্কে আমি নেহাত মন্দ না, কিন্তু এই অঙ্কটা মেলাতে গিয়ে প্রত্যেক প্রসিডিওরেই আমাকে শেষমেশ উত্তরমালাই দেখতে হয়েছে। এবং আমি যা দেখেছি সেখানে, একটাই উত্তর দেখেছি — শূন্য। ঠিক এমন একটা গানই গেয়ে গেছেন শ্রী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সেখানে অবশ্য আমি এবং আমার চারপাশ ছিল, আর আমারটায় আমি আর আমি। সুতরাং অঙ্ক ছেড়ে তখন আমাকে অঙ্কের পর্দা সরিয়ে অঙ্কের ফিলোসোফি দেখতে হয়েছে। আর তাতে করে আমি এই বুঝেছি, ওটা হল্ট। ওখানেই আমাকেই নেমে যেতে হবে।
আমি এখন ৫২। আর এটা ২০২৬। আমার হিসেবে অতএব ২০২৯-শেই আমার ফুলস্টপ পড়ে যাওয়ার কথা। আমি জীবনে খুব একটা হাত পাতি নি কোনও নশ্বরের কাছে, তবুও বলা তো যায় না, কখনও বা হয়তঃ হয়ে গেছে সেটা, আর সেটা আমার জাষ্ট তলিয়ে গেছে বিস্মরণে। না, না, সত্যি বলছি, সুবিধাজনক ভাবে ভুলে যাচ্ছি না; তবুও এই লেখাটা, যদিও ব্যক্তিগত একান্তই এটা, তবুও পাবলিক ডোমেইনে দেবো বলে একান্তই ভেবেছি যখন, তখন একটা অনুরোধও করে যাই — কারোর যদি এমন কিছু মনে পড়ে, কাইন্ডলি মনে করিয়ে দেবেন; তাহলে আমার একার চলার পথ কিছুটা মসৃণ হবে আর কি! মানে, আমি দিনের শেষে সেই নিজের কথাই ভাবছি কিন্তু নেহাত একলসেঁড়ের মতো, কী-ই বা করব আর... দ্যে স্যে, আপনি বাঁচলে বাপের নাম। তো, মনে রাখবেন কিন্তু, জানুয়ারি, ২০২৯।
এই বাক্যটা যখন লিখছি, প্লে লিস্ট থেকে বেজে উঠলঃ জিন্দেগী আ রহা হুঁ ম্যায়... কোন্টা যে জিন্দেগী...!!!
অনিন্দ্য ঘোষ ©
ফটো কার্টসিঃ গুগল ইমেজেস ।
ঋণঃ আমি সজ্ঞানে বা অজান্তেই একপ্রকার, আমার বাক্যের শুরু, মাঝখান বা শেষে, বহু গায়ক / গায়িকার গানের অংশ, অনেকসময় কবিতার কোনো অংশ, কারোর গদ্যের কোনো অংশ, নামকরণ ইত্যাদি প্রভৃতি ব্যবহার করে ফেলি। এখানেও যদি করে থাকি, তো, সেইসব কবিদের, গদ্যকারদের আর গানের ক্ষেত্রে, গানের গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক / গায়িকা ও সেইসব গানের অংশভুক সকলকে।
No comments:
Post a Comment